মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: বাংলায় এখন রামের শাসন চলছে। ‘রেল শহর’ খড়্গপুরের রামবাবুর আধিপত্য এখন অস্তাচলে! যদিও তাঁর পুজো ঘিরে শহর তথা জেলাবাসীর আগ্রহ একটুও কমেনি। বাসব রামবাবুকে ঘিরে থাকা রহস্যের মতোই এবার তাঁর পুজোর থিমেও থাকছে গা-ছমছমে একটা ব্যাপার! জানা গিয়েছে, প্রাচীন ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে এবার এক অদ্ভুত চমক থাকছে মথুরকাটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির ৬৪তম বর্ষের এই থিমে। জেলাবাসীর কাছে এই পুজোই রামবাবুর পুজো হিসেবে খ্যাত। পুজো উদ্যোক্তারাও একবাক্যে স্বীকার করেন, এবারও আমাদের মাথার উপর ভাইয়া (রামবাবু) আছেন! পুজোর থিমের বিষয়ে তাঁরা বলেন, সেটা উদ্বোধনের দিনই জানতে পারবেন শহর ও জেলাবাসী।
২০২৩ সালের ২৭ জুন শ্রীনু নাইডু হত্যা মামলায় বেকসুর খালাস পান খড়্গপুরের এক সময়ের ‘ত্রাস’ বাসব রামবাবু সহ ১৩ জন। শ্রীনু নাইডু ও বাসব রামবাবু দু’জনই ‘রেল মাফিয়া হিসেবে খড়্গপুরে পরিচিত ছিলেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই ‘অন্তরালে’ চলে গিয়েছেন রামবাবু। তবে, তাঁর মথুরকাটি সর্বজনীনের দুর্গাপূজা এবারও ধুমধাম সহকারেই হবে। প্রায় ৬০ জন সদস্যকে নিয়ে পুজো কমিটি তৈরি হয়েছে। তবে অভিভাবক হিসেবে এবারও স্বমহিমায় আছেন ষাটোর্ধ্ব রামবাবু। পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে অমিয় ভৌমিক বলেন, পুজো এবারও সাড়ম্বরেই হবে। বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। ঐতিহ্য মেনে এবারও মাতৃপক্ষের সূচনায় অর্থাৎ প্রথমা থেকে ঘটে পুজোর সূচনা হবে। রীতি মেনে পঞ্চমী থেকে প্রতিমা পুজো হবে। এই পুজোর অন্যতম ঐতিহ্য হল বিশাল মেলা। এবারও মেলা হবে। মণ্ডপ বা থিম সম্পর্কে অবশ্য তিনি বিশেষ কিছু বলতে চাননি। তবে, মণ্ডপে প্রবেশ করলেই এবার যে গা ছমছমে একটা ব্যাপার অনুভূত হবে, তা স্পষ্ট করেন অমিয়বাবু সহ অন্যান্য সদস্যরা। মণ্ডপের সঙ্গে মানানসই প্রতিমা তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
পুজোতে সরকারি অনুদান নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, অনলাইন শপিং আর মলের দাপটে শহরের ব্যবসায়ীদের বাজার কিছুটা হলেও মন্দা। আগে যে সমস্ত ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতেন এবার তাঁরা তা দিতে পারবেন না বলেই আমাদের অনুমান। আর সেজন্যই সরকারি অনুদানের ১ লক্ষ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে কি রামবাবুর পুজোর কৌলিন্যে কোথাও আঘাত লাগতে পারে? পুজো কমিটির তরফে ভার্গব কুমার বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সিদ্ধান্ত বদল করতে হয়। ভাইয়ার নির্দেশে আমরা কোনোদিনই কোনো ব্যবসায়ী বা বাসিন্দাকে চাঁদার জন্য চাপ দিইনি। তাঁরা নিজেরাই সাধ্যমতো চাঁদা দিয়ে যেতেন। কিন্তু, অনলাইন কেনাকাটা আর শপিং মলের দাপটে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই এই সিদ্ধান্ত।