নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিপদ পড়েছে রবিবার। ছুটির দিন। তাই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রাত জেগে ঠাকুর দেখা শুরু করে দিল উৎসবপ্রিয় বাঙালি। ঘড়ির কাঁটা বলছে, রাত তখন দেড়টা। কিন্তু, বেহালার বড়িশা ক্লাবের সামনের অবস্থা দেখে মনে হবে হয়ত ভরসন্ধ্যা। এখনও পথে নামেনি বাড়তি পুলিশ। ভিড় সামলাতে কার্যত হিমশিম খেলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। রাত দেড়টায় পুজো মণ্ডপের সামনের রাস্তায় পুলিশের গার্ডরেল দিয়ে পৃথক লাইন তৈরি করা হল। দর্শকদের চাপ এতটাই বেশি যে, প্রায় আধঘণ্টার উপর লাইনেই অপেক্ষা করতে হল দর্শনার্থীদের। এই চিত্র শুধু বেহালার নয়। উত্তর কলকাতার হাতিবাগান সর্বজনীন হোক, কিংবা দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর সর্বজনীন— সব জায়গাতেই নতুন জামা গায়ে চাপিয়ে প্যান্ডেল হপিংয়ের মুডে ঢুকে পড়ল তিলোত্তমা।
পুজোর আগে এটাই ছিল শেষ রবিবার। তাই কেনাকাটার ধুম ছিল তুঙ্গে। উত্তরে হাতিবাগানে ভিড়ের চাপ সামলাতে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কিন্তু, তাতেও সমাধান হয়নি। বিকল্প রুটে যান চলাচল একেবারেই স্বাভাবিক ছিল না। কারণ, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করে উত্তরের মণ্ডপ দর্শন সেরে নিয়েছেন অনেকেই। হাতিবাগান নবীনপল্লি থেকে কাশী বোস লেন। জামা, চুড়িদার, জুতোর ব্যাগ হাতে নিয়েই হাতিবাগান সর্বজনীনে হাজির তিন যুগল। বন্ধুরা একসঙ্গেই কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন। ওদিকে ফিনিশিং টাচ দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। কিন্তু, তার ফাঁক দিয়েই সেলফি তুলে নিলেন তরুণ-তরুণীদের জুটি। তাঁদের বক্তব্য, যতটা সম্ভব ফাঁকায় ফাঁকায় পুজো কভার করতে হবে। তাই মণ্ডপ ফাঁকা পেয়ে দেখে নিলাম। ‘ট্রেন্ডিং’য়ে থাকতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার নেশায় জেন-জি’রা চষলেন উত্তর কলকাতার অলিগলি।
উত্তরের চেয়ে দক্ষিণ কিছুটা হলেও একটু বেশি প্রস্তুত। বেশিরভাগ মণ্ডপেরই কাজ প্রায় শেষ। রাস্তায় আলোর রোশনাই দেখা যাচ্ছে। পাড়াগুলিও রঙিন আলোয় সেজে উঠেছে। গড়িয়াহাট চত্বরে শেষ রবিবারের কেনাকাটা সেরে একডালিয়া, সিংহী পার্কের মণ্ডপ দেখতে ঢুঁ মারলেন অনেকেই। কিন্তু, সেখানে এখনও দর্শকদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হয়নি। তাই নিরাশ হয়ে ফিরলেন অনেকেই। কিন্তু, মুখ ফেরায়নি আলিপুর সর্বজনীন। মহালয়া ও প্রতিপদ দু’দিনই সেখানে রাস্তার দু’ধারে বাইক, গাড়ি দাঁড় করিয়ে ঠাকুর দেখল উৎসবপ্রিয় বাঙালি। নিউ আলিপুরের বাসিন্দা অসিত সেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছিলেন আলিপুর সর্বজনীনের ঠাকুর দেখতে। তাঁর কথায়, পরিবারের সঙ্গে গড়িয়াহাটে কেনাকাটা শেষ করে রেস্তরাঁয় যাই। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় দেখতে পাই চেতলায় চার মাথার মোড়ে ব্যাপক ভিড়। বুঝতে পারি মণ্ডপ খুলে দিয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে ভিড় এড়াতে ঢুকে পড়ি। প্রতিপদেই আলিপুর সর্বজনীন আমাদের কমপ্লিট।



