


সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘বিজেপি এলেই দু’মাসের মধ্যে সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ হবে। তাই পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপির সরকার।’—ওয়েব ওয়াল থেকে দেওয়াল, পোস্টার থেকে ব্যানার, চোখ যে দিকে যায়, সেদিকেই এমন গেরুয়া প্রচার। মঞ্চেও বড়বড় মুখ করে শূন্যপদ পূরণের ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঠিক যেভাবে ২০১৪ সালে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন ফেরি করেছিলেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। কি ছিল না ‘ফকির’-এর ঝুলিতে—বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধাক করে দেশবাসীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো...বছরে দু’কোটি বেকারের চাকরি, আরও কতকিছু! দিল্লির কুর্সিতে বসে একটাও প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি মোদি সরকার। দু’কোটি বেকারের চাকরি তো দূরঅস্ত, নিজেদের লাভজনক সংস্থা রেল ও সেইলে শূন্যপদে নিয়োগ করতে ব্যর্থ এক যুগের শাসনকালে। স্বভাবতই বাংলার ভোটে গেরুয়া-আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার কথা হচ্ছিল চিত্তরঞ্জন লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব গুপ্তর সঙ্গে। চিত্তরঞ্জন লেবার ইউনিয়ন সরকার স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠন। গত বছরই শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচনে তাঁরা সর্বোচ্চ ভোট পায়। সেই সংগঠনের নেতা রাজীববাবু বলছিলেন, ‘বিজেপি সরকার কত চাকরি দেবে, তা সিএলডব্লুকে দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন। একদা এখানে ১৮ হাজার স্থায়ী শ্রমিক কাজ করতেন। এখন সংখ্যাটা ৮ হাজারেরও কম। স্থায়ী পদগুলি তুলেই দিচ্ছে কেন্দ্র। একটি কারখানাতেই এখনও ২ হাজার পদ ফাঁকা। ১২ বছর মোদি সরকার চিত্তরঞ্জনে নিয়োগ কেন করল না? ওরা যখন সরকারি শূন্যপদ পূরণের কথা বলছে, তখন এই প্রশ্নের জবাব তো জনগণকে দিতেই হবে।’
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী। তিনি আবার ডিএসপির শ্রমিক। দলের শ্রমিক সংগঠরেন দীর্ঘদিনের নেতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির জুমলায় শিল্পাঞ্চলবাসী আর বিশ্বাস করে না। ডিএসপি, এএসপি, সেইল সহ একাধিক সংস্থায় হাজার হাজার শূন্যপদ ফাঁকা পড়ে। কারখানায় শ্রমিক সংখ্যা কমে গিয়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। ইসিএলে এখন কোনো স্থায়ী নিয়োগ হয় না। শিল্পাঞ্চলবাসী বিজেপির এই চাকরি দেওয়ার ভাঁওতা প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করবে না।’
তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি ভি শিবদাসনদাসু আবার মনে করিয়েছেন, মেদির সেই দু’কোটি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা। তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন দেশে প্রতিবছর ২ কোটি করে চাকরি হবে। বছরে দু’লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীকেও চাকরি দিতে পারেননি। সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থায় শূন্যপদ পড়ে রয়েছে।’
শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষেরও একই অভিমত। সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুরে হিন্দুস্তান কেবলস বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখানকার বাসিন্দা প্রাণেশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই কারখানা খুললেই তো বহু কর্মসংস্থান হতো। কেন ওরা কারখানা খুলল না। বার্নপুর, রানিগঞ্জের বার্নস কারখানারও একই দশা। দুর্গাপুরের এমএএমসি, বিওজিএল ফার্টিলাইজার একের পর এক কেন্দ্রীয় সরকারের কারখানা বন্ধ। কর্মসংস্থানের ইচ্ছে থাকলে এইসব কারখানা খোলার উদ্যোগ নেওয়া যেত।’ ১২ বছর মোদি সরকার কেন উদ্যোগী হলে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন দুর্গাপুরের যুবক রিক চট্টোপাধ্যায়ও।
তবে, নিজেদের ব্যর্থতা না দেখে বাংলায় আশার আলো দেখাতে ছাড়ছে না বিজেপি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, ‘বাংলায় পরিবর্তন হচ্ছে তা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে মানসিক অবসাদে ভুগছেন। বিজেপি সরকার এলে তাঁরা আশার আলো দেখবেন।’