নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে(সিএএ) আবেদনকারীদের এবার চতুর্থ একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। আগের তিনটি হলফনামার বিষয়বস্তু কার্যত একত্র করে নতুন হলফনামা তৈরি করতে হবে নোটারির মাধ্যমে। শুনানির সময় বাকি নথির সঙ্গে এই হলফনামাও জমা দিতে হবে আবেদনকারীদের। কয়েক দিন আগে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে নোটারিদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই যাঁরা সিএএ-তে আবেদন করেছেন এবং শুনানিতে ডাক পেয়েছেন তাঁদের চতুর্থ হলফনামা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দিতে হবে। যাঁদের শুনানির দিন এখনো নির্ধারিত হয়নি, তাঁদেরও আগের তিনটি হলফনামার পাশাপাশি নতুন হলফনামা তৈরি করে জমা দিতে হবে। নোটারি তথা আইনজীবী মুর সালিম বলেন, সিএএ-র জন্য অতিরিক্ত একটি হলফনামার প্রয়োজন হচ্ছে। সেখানেও তিনটি বিভাগ থাকছে। প্রশাসনের নির্দেশমতো আমরা সেই কাজ করছি।
এত দিন সিএএ-তে আবেদন করার জন্য তিনটি হলফনামা জমা দিতে হচ্ছিল। প্রথম হলফনামায় আবেদনকারী নিজেকে বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করতেন। দ্বিতীয় হলফনামায় একজন ভারতীয় নাগরিক সাক্ষী হিসেবে জানাতেন যে, আবেদনকারী বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন। তৃতীয় হলফনামায় আবেদনকারী বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসার কথা উল্লেখ করে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন জানাতেন। এবার এই তিনটি বিষয় একত্র করে একটি হলফনামায় উল্লেখ করতে হবে। সেখানে আবেদনকারীর পাশাপাশি একজন সাক্ষীও থাকবেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক আবেদনকারী আগেই এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তিনটি হলফনামা জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই হলফনামাগুলি গ্রহণও করেছেন। কিন্তু, শুনানির সময় জমা দেওয়া নথিপত্র নিয়ে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হলে আবেদন বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে নতুন হলফনামা নোটারির মাধ্যমে তৈরি করে আগের তিনটি হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রথম সেকশনে আবেদনকারীকে নিজের দেশের পরিচয়, ধর্মীয় সম্প্রদায়, পূর্ববর্তী ঠিকানা, ভারতে প্রবেশের তারিখ এবং নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে ঘোষণা করতে হবে। দ্বিতীয় সেকশনে, আবেদনকারীকে নিজের চরিত্র এবং ফৌজদারি মামলা বিষয়টি সম্পর্কে ঘোষণা করতে হবে। তৃতীয় সেকশনে, আবেদনকারীকে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য কোনো জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য জমা দেননি। ভবিষ্যতে কোনো নথি বা তথ্য জাল কিংবা মিথ্যা প্রমাণিত হলে তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে ভারতে আসা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য সিএএ এনেছে কেন্দ্র। দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কের পরে পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে পোস্ট অফিসের পরিবর্তে শুনানি প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসনের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নদীয়া জেলায় প্রায় ৯০ হাজার আবেদনকারীর শুনানি করতে হবে। রাজ্যের মধ্যে নদীয়াতেই আবেদনকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। জেলার চারটি মহকুমায় প্রায় ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে শুনানির কাজে যুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিন হাজার আবেদনকারীকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক হাজারের বেশি আবেদনকারী শুনানিতে হাজির হয়েছেন। জেলার চারটি মহকুমা অফিসেই সিএএ-র শুনানি শুরু হয়েছে।



