Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাগীরথীতে ভাঙন শুরু, পূর্বস্থলীর কিশোরীগঞ্জে আতঙ্ক

ভাগীরথীতে জল বাড়তেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন৷ ঘুম উড়েছে পূর্বস্থলীর নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের৷ নসরতপুরের কিশোরীগঞ্জ গ্রামে নদীর পাড়ে ধস নামছে৷

ভাগীরথীতে ভাঙন শুরু, পূর্বস্থলীর কিশোরীগঞ্জে আতঙ্ক
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভাগীরথীতে জল বাড়তেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন৷ ঘুম উড়েছে পূর্বস্থলীর নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের৷ নসরতপুরের কিশোরীগঞ্জ গ্রামে নদীর পাড়ে ধস নামছে৷ গাছ ভেঙে পড়ছে৷ বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন৷ ভাগীরথীর ভাঙনে গ্রামের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। চিন্তা বেড়েছে গ্রামের বাসিন্দাদের৷ অসহায় বাসিন্দারা৷ তাঁদের দাবি, ভাঙন রোধের কাজ করতে হবে৷

Advertisement

বর্ষা এলেই চিন্তা বাড়ে পূর্বস্থলীর ঝাউডাঙা, হালচাতরা, কিশোরীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দাদের।  কোথাও ঝুপঝাপ নদী পাড়ের মাটি ধসে যাওয়ার শব্দে ঘুম আসে না। আবার কোথাও ভাঙনে নদীগর্ভে কৃষিজমি, বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার চিন্তা বাড়ে৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলী-২ ব্লকের ঝাউডাঙা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার দিকে নতুন করে ভাঙছে৷ মাটি ধসছে কখনও, আবার কখনও পাড়ের বড় চাঙর ভেঙে পড়ছে। আবার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের নসরতপুর অঞ্চলের কিশোরীগঞ্জ গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে৷ নদী পাড়ের মাটি ধসতেই নিজের বসত বাড়ি ভেঙে ফেলছেন বাসিন্দারা। অনেকেই নদী পাড় থেকে বাপ ঠাকুরদার ভিটের মায়া ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। কিশোরীগঞ্জ গ্রামটি পূর্ব বর্ধমানের অন্তর্ভুক্ত হলেও ভৌগলিক অবস্থান নদীয়া জেলার মূল ভূখণ্ডে। সমুদ্রগড় স্টেশনে নেমে জালুইডাঙা ফেরিঘাট দিয়ে নদী পার হলেই কিশোরীগঞ্জ গ্রামে যাওয়া যায়৷ 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময়ে গ্রামে ২৭০-এর বেশি পরিবার বাস করত৷ এখন অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন৷ ভাঙনের আতঙ্ক তাঁদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷ গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল শেখ, মালতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নদীতে গ্রামের বহু জমিজমা, বাড়িঘর তলিয়ে গিয়েছে৷ প্রতি বছর গ্রামটাকে গিলছে ভাগীরথী৷ অনেকে গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আবার অনেকের ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা। 
বঙ্কেশ বৈরাগ্য বলেন, আমাদের গ্রামে ভাঙন সমস্যা দীর্ঘদিনের। বাপ ঠাকুরদার জমিজমা সব নদী খেয়েছে। নতুন করে বর্ষার শুরুতেই ফের ভাঙছে৷ আমরা চাই গ্রামটাকে বাঁচাতে সচেষ্ট হোক প্রশাসন৷ তা না হলে আমাদেরও গ্রাম ছাড়তে হবে৷ 
বাসিন্দাদের ব্লকে প্রশাসনিক কাজকর্ম করতে হলে নৌকা করে ভাগীরথী পেরিয়েই আসতে হয়৷ ভাঙনের জেরে গ্রামের একটি রাস্তারও অবস্থা ভালো নয়৷ বাসিন্দারা বলছেন, আমাদের সব সময়ে ভয় নিয়ে বাস করতে হয়৷ কখন কী হয়, বলা যায় না৷ আগে বাড়িঘর জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে৷ প্রশাসন গ্রামের দিকে আরেকটু নজর দিকে ভালো হয়৷ অন্তত বর্ষাকালে শান্তিতে ঘুমাতে পারি। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ