নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন কে করেছিল? নির্দেশ কার? নির্বাচন কমিশন নীরব। ফলে ধোঁয়াশা অব্যাহত। তার মধ্যেই ‘দি হিন্দু’র একটি রিপোর্ট নয়া বিতর্ক উসকে দিল। এসআইআর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বিভিন্ন রাজ্যে ‘অটো জেনারেটেড’ বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে বাদ পড়েছিল হাজার হাজার নাম। সেখানে ডিজিটাল সই ছিল ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও)। ওই রিপোর্টে দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) কোনো লিখিত প্রোটোকল বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়র (এসওপি) ছাড়াই রাজ্য নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ ওই কাজ করেছিল। অন্যান্য একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও একইভাবে নাম বাদ পড়েছিল বলে খবর। ঘটনাচক্রে, এসআইআর ইস্যুতে পেশ হওয়া আবেদনের ভিত্তিতে একদিন আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তার মধ্যেই এই নয়া রিপোর্ট বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের আবেদন পেশের জন্য ফর্ম ৭ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, ইআরও বা অ্যাসিস্টেন্ট ইআরও (এইআরও) নিজে থেকে ফর্ম ৭ পূরণের মাধ্যমে কারও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করতে পারেন না। সেই এক্তিয়ার তাঁদের নেই। তা সত্ত্বেও দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল সই সহ ‘অটো জেনারেটেড’ ফর্মের মাধ্যমে নাম বাদের আবেদন পেশ করেছিলেন রাজ্য নির্বাচনি আধিকারিকরা। নিষ্পত্তি না ও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের ক্ষেত্রে এই আবেদন পেশ হয়েছিল। ‘দি হিন্দু’র রিপোর্টে দাবি, এবিষয়ে প্রশ্ন করা সত্ত্বেও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোনো জবাব এখনও আসেনি। রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, এসআইআর শুনানি চলাকালীন নির্বাচনি আধিকারিকরা নাম বাদ দেওয়ার সময় কমিশনের সফটওয়্যার ‘ইআরওনেট’-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ফর্ম ৭ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনি আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে এই দাবি করা হয়েছে প্রকাশিত রিপোর্টটিতে। দিল্লির উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হয়েছে, বহু ক্ষেত্রেই ‘আপত্তিকারী’র ভূমিকা পালন করেছেন ইআরওরা। যদিও নির্বাচনি বিধিতে তাঁদের সেই অধিকার দেওয়া হয়নি।
এর আগে উত্তরাখণ্ডের উদাহরণ টেনে কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, নামের বানান ও বয়স সংক্রান্ত সামান্য ভুলত্রুটির ক্ষেত্রেও ‘অটো জেনারেটেড’ ফর্মের মাধ্যমে নাম বাদের আবেদন পেশ হয়েছিল। বেছে বেছে তাদের সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই কাজ করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডে এসআইআর চলাকালীন প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ফর্ম ৭ আবেদন পেশ হয়েছিল। তার মধ্যে ৯৫ হাজারেরও বেশি ভোটারকে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা হয়।
ভোটার তালিকা ম্যানুয়াল, ২০২৪ অনুযায়ী, ইআরওদের ফর্ম ৭ দাখিল করার কোনো বিধান নেই। এই প্রক্রিয়ায় বিচারক হিসাবে ইআরওরা শুধুমাত্র অযোগ্য বলে বিবেচিত কোনো নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন। নয়া রিপোর্টে অভিযোগ, তাঁরা নিজেরাই ডিজিটাল সই সহ ‘অটো জেনারেটেড’ ফর্ম ৭ পেশ করেছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।



