Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টোটোর দাপটে স্টেশনে ঢোকা-বেরনো দায়, রাস্তায় থমকে অ্যাম্বুলেন্সের গতি

ট্রেন থেকে নেমে বাসের জন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে দৌড় লাগালেন নীলপুরের শম্ভু সরকার। স্টেশনের বাইরে এসে তাঁর গতি থমকে গেল। মূল রাস্তায় আসতে কালঘাম ছোটার জোগাড়। সৌজন্যে টোটো।

টোটোর দাপটে স্টেশনে ঢোকা-বেরনো দায়, রাস্তায় থমকে অ্যাম্বুলেন্সের গতি
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ট্রেন থেকে নেমে বাসের জন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে দৌড় লাগালেন নীলপুরের শম্ভু সরকার। স্টেশনের বাইরে এসে তাঁর গতি থমকে গেল। মূল রাস্তায় আসতে কালঘাম ছোটার জোগাড়। সৌজন্যে টোটো। নিত্যযাত্রীদের কাছে এই দুর্ভোগ অভ্যাসে পরিণত হয়ে উঠেছে। স্টেশনের বাইরে টোটো চালকরাই ‘ভাগ্য বিধাতা’। তাঁরা করুণা করলে যাত্রীরা সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। আবার তাঁরা ক্ষুণ্ণ হলে স্টেশনে ঢুকতে বা বেরতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে। এখানে এসে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে আদৌ শহরে প্রশাসন বলে কিছু আছে তো? শুধু স্টেশন চত্বর নয়, ব্যস্ত সময়ে কেউ একবার খোসবাগানে ঢুকলে টের পাবেন কেন যন্ত্রণার আর এক নাম বর্ধমান শহর।

Advertisement

দুপুরে বর্ধমান স্টেশনের কাছে কথা হচ্ছিল কাজল দাস নামে এক বক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, টোটো চালকদের মধ্যে শৃঙ্খলা আনা দরকার। যে যার ইচ্ছেমতো টোটো রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখছে। পথ চলতি লোকজনদের কথা তাঁরা ভাবে না। শহরে যানজটের জন্য তারাই দায়ী। স্টেশনের বাইরে বাস এবং টোটো চালকদের যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তার খেসারত আমনতাকে দিতে হয়। শহরের আর এক বাসিন্দা ডালিম শেখ বলেন, খোসবাগান, পার্কাস রোড, স্টেশন রোড সহ সব জায়গাতেই একই অবস্থা। নিয়ম মেনে চালকরা টোটো চালালে এই সমস্যা হত না। অনেক চালক ট্রাফিক সিগন্যালেরও তোয়াক্কা করে না। কানে ফোন নিয়ে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায়। যাত্রী সুরক্ষার কোনো বালাই নেই। খোসবাগানের রাস্তায় টোটোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সও আটকে থাকতে বাধ্য হয়। বিসি রোড, বড়বাজার বা রানিগঞ্জ বাজার মোড়ে দুর্বিষহ অবস্থা। সবসময় আতঙ্কের সঙ্গে রাস্তায় বেরতে হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বহু বেকার যুবক টোটো চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। কখনোই তাঁদের পেটের ভাত কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। কিন্তু, শৃঙ্খলা দরকার। কোন রুটে কত টোটো চলবে তার একটা হিসাব থাকা দরকার। তাছাড়া স্টেশনের বাইরে টোটো দাঁড় করানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ লাগু করা দরকার। নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় টোটো দাঁড় করানোর ব্যবস্থা থাকলে এই সমস্যা তৈরি হত না। এক টোটোচালক বলেন, সবাই নিয়ম মানে না, এমনটা ঠিক নয়। কেউ কেউ রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে দাদাগিরি দেখায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। তৃণমূল জমানায় স্টেশন চত্বরে এক আইএনটিটিইউসি নেতা দাদাগিরি দেখাতেন। এখন তাঁর ডানা ছাঁটা হয়েছে। নতুন করে কেউ কেউ মাথা তোলার চেষ্টা করছে। বিজেপি নেতা অনীশ দাস বলেন, সকলকেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেটা হলে সবার ভাল হবে।
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, টোটো চালকদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছিল। তাদের রুট ঠিক করে দেওয়া হয়। তারপরও অনেকে নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে চলছে। পথচলতি লোকজনদের কথা তাঁদের ভাবা উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ