


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুধু বেআইনি প্রোমোটিং বা এলাকা দখল নয়, গত কয়েক মাসে প্রোমোটার মহম্মদ শফিক ও হারুন খানের মধ্যে ইগোর লড়াই চরমে উঠেছিল। সেই ইগো থেকেই হারুনকে খুনের একাধিকবার চেষ্টা চালিয়েছিল শফিক। উত্তর হাওড়ার পিলখানায় দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত গড়ায় রক্তক্ষয়ী পরিণতিতে। স্তরে স্তরে পরিকল্পনা সাজিয়ে শফিককেই গুলি চালিয়ে খতম করে হারুন। এই কাজে তাদের সহযোগী ছিল আরও তিন দুষ্কৃতী। তদন্তকারীদের কথায়, ‘এ যেন খাঁটি গ্যাং ওয়ার,
যেখানে শেষ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু ছিল সময়ের অপেক্ষা।’
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর হাওড়ায় বেআইনি প্রোমোটিংয়ের রমরমা। পিলখানা, সালকিয়া, বাঁধাঘাট, গোলাবাড়ি, মালিপাঁচঘড়া, ডবসন রোড এবং অলিগলিতে আগাছার মতো বেড়ে উঠেছে কংক্রিটের বহুতল। এর মধ্যে বেশ কিছু বিল্ডিং ও ফ্ল্যাট বেআইনি। এই কাজে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে শফিক ও হারুন দু’পক্ষই নিজেদের গোষ্ঠীতে দুষ্কৃতীর সংখ্যা বাড়াচ্ছিল। বিবাদের মোড় ঘোরে একটি অনলাইন প্রতারণা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। গোলাবাড়ি এলাকায় সক্রিয় একটি চক্র অর্ধেক দামে ব্র্যান্ডেড পোশাক দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করত। দুষ্কৃতী মহলে ‘ভাঙা বালতি চক্র’ নামে পরিচিত ওই চক্রের খপ্পরে পড়ে হারুনের গোষ্ঠীর এক সদস্য। সে প্রায় দু’লক্ষ টাকা খোয়ায়। পরে হারুন প্রতারণা চক্রের পান্ডাকে হুমকি দিয়ে সেই টাকা আদায় করে। ‘অপমানিত’ প্রতারক শফিকের দ্বারস্থ হলে শফিক ফোনে হারুনকে বিষয়টি থেকে সরে আসতে বলে। সেখান থেকেই ইগোর সংঘাত তীব্র হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, এরপর নিজের দাপট দেখাতে হারুনকে একাধিকবার খুনের চেষ্টা চালিয়েছিল শফিক। গুলি কাণ্ডের আগের দিন ফোরশোর রোডে দলবল নিয়ে হারুনকে তাড়া করেছিল শফিক। মঙ্গলবার রাতেও বাইক নিয়ে পিলখানার অলিগলিতে তাকে খুঁজতে গিয়েছিল সে। হারুন বুঝে যায়, সেই রাতেই শফিককে শেষ করতে না পারলে নিজেও প্রাণে বাঁচবে না। পুলিশের দাবি, বুধবার ভোরে হারুন ফোনে হুমকি দিয়ে শফিকের বাড়ির সামনে হাজির হয়। শফিকের সঙ্গেও আগ্নেয়াস্ত্রধারী এক সহযোগী ছিল। কিন্তু হারুন ও রোহিত একসঙ্গে শফিকের উপর পরপর গুলি চালাতেই সে পালিয়ে যায়।