নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর সময় অগ্নিকাণ্ডের বিপদ এড়াতে আগেভাগেই সতর্ক দমকল বিভাগ। বুধবার থেকে শহরের বড় বড় শপিং মলে পরিদর্শন শুরু করল দমকলের টিম। সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। সেখানকার কর্মীরা অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করার মতো পারদর্শী কি না, সেটাও দেখেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, শহর কলকাতা ও লাগোয়া এলাকার মোট ২০টি মল দমকল কর্মীরা পরিদর্শন করবেন। অন্যদিকে, এদিন বড়বাজারে ওষুধের পাইকারি মার্কেট মেহেতা বিল্ডিং এবং তিলজলায় স্টেট ড্রাগ কন্ট্রোল ও পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের অভিযান চলে। মেহেতা বিল্ডিংয়ে একটি দোকান ‘সিল’ করার পাশাপাশি প্রচুর ওষুধপত্র ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তিলজলার অভিযানে দেখা যায়, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি হিউম্যান ইনসুলিন। সংশ্লিষ্ট দোকানটি ‘সিল’ করা হয়। এদিকে, কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, শহরের আরও ২৫টি রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এদিন কলকাতার তিনটি নামী জায়গায় শপিং মলে যায় দমকল। সেখানকার কর্মী ও ফ্লোর ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলেন। যান বেসমেন্টে। সেখানে ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমের কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখেন। মোটর ঠিক আছে কি না, কন্ট্রোল রুমে অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেম আছে কি না, সবটা দেখা হয়। হোস পাইপ থেকে শুরু করে জলের চাপ ঠিক আছে কি না, তাও পরীক্ষা করেন। দমকলের এক আধিকারিক নীহার রায় বলেন, আমাদের পরিদর্শন চলতেই থাকে। তবে, দুর্গাপুজো সামনে বলে বিশেষ ভিজিট। মার্কেটিং করতে বহু মানুষের ভিড় হবে এইসব জায়গায়। তাই, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শপিং মলের সিনিয়র ম্যানেজার হিমাদ্রিশেখর চ্যাটার্জী বলেন, আমাদের ছেলেরা প্রশিক্ষিত। প্রতিটি যন্ত্র চালাতে পারেন। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করি। আমরা সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। দমকলের পরামর্শ মতো আরও বেশি নজর দেওয়া হবে।। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখার জন্য আলাদা কর্মীও আছেন। প্রতি মাসে অগ্নি নির্বাপণের মক ড্রিল করা হয়।
অন্যদিকে, এদিন সকালে ইবি ও ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসারদের সারপ্রাইজ ভিজিটে মেহেতা বিল্ডিংয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সেল ও পার্চেস রুট খতিয়ে দেখা হয়। কোম্পানির সুনির্দিষ্ট ব্যাচ নম্বরের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না, লাইসেন্স ঠিকঠাক আছে কি না, এসবও দেখা হয়।