Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফোরলেনের জল্পনায় ইতি, ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের ছাড়পত্র দিল্লির, বালি ও ডাম্পারের চাপে স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ছিল রাস্তাটি চওড়া করার। অনেকেই বুক বেঁধেছিলেন, যানজট আর মরণফাঁদ থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি পেতে এবার হয়তো ফোরলেন হবে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক।

ফোরলেনের জল্পনায় ইতি, ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের ছাড়পত্র দিল্লির, বালি ও ডাম্পারের চাপে স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ছিল রাস্তাটি চওড়া করার। অনেকেই বুক বেঁধেছিলেন, যানজট আর মরণফাঁদ থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি পেতে এবার হয়তো ফোরলেন হবে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। কিন্তু জেলা প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাস্তা সম্প্রসারণ হচ্ছে না, বদলে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ‘পূর্ণাঙ্গ সংস্কার’করা হবে। তারই অনুমোদন দিয়েছে দিল্লি। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হতাশ জেলার নিত্যযাত্রীরা।

Advertisement

পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে বীরভূমের বুক চিরে মুর্শিদাবাদের মোড়গ্রামে ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কে মিশেছে ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক। প্রায় দেড়শো কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ শুধু দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের মূল যোগসূত্রই নয়, এই জেলার অর্থনীতির অন্যতম বড় বাণিজ্যিক করিডরও। কিন্তু বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অত্যন্ত বেহাল দশা। পাথর ও বালিবোঝাই ভারী ডাম্পারের দাপটে রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। গর্ত আর খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রাণ হাতে করে যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষ থেকে স্কুলপড়ুয়াদের। নিত্য দুর্ঘটনা ঘটছে।
গত প্রায় ১৫বছর ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনে এই রাস্তার হাল ফেরেনি। মাঝে ফোরলেনের তৈরির তোড়জোড় হলেও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় তা থমকে যায়। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সিউড়ির উপকণ্ঠে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর তিলপাড়া ব্যারেজ সংলগ্ন একটি বিকল্প সেতু নির্মাণের কথা ঘোষণা করা হয়। এতেই সাধারণ মানুষের মনে আশা জেগেছিল, এবার হয়তো সম্পূর্ণ জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তা চওড়া করা হচ্ছে না। যেমন রাস্তা ছিল, তেমনই হবে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সংস্কারেই সিলমোহর দিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে আমজনতা বা নিত্যযাত্রীদের স্বস্তি মিলছে না। কারণ এই সড়কের মেরামতি ঘিরে সাধারণ মানুষের অতীত অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। নিত্যযাত্রীরা বলেন, এই রাস্তা দিয়ে যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি হাজার হাজার ওভারলোডেড বালি-পাথরের লরি চলে। স্রেফ সংস্কার করে এই বিপুল চাপ কতদিন সামলানো যাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নিত্যযাত্রী দেবাশিস কুমার, স্বপন কাহার বলেন, ভেবেছিলাম নতুন সরকার রাস্তা চওড়া করে ওয়ান-ওয়ে করবে। তাহলে যানজট ও দুর্ঘটনার ভয় থাকত না। কিন্তু সেই পুরনো রাস্তাই যদি সংস্কার হয় তবে আমাদের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হল না।
যদিও জেলা প্রশাসনের যুক্তি, ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে মোড়গ্রাম থেকে নলহাটি-২, লাভপুর, নানুর হয়ে খড়্গপুর পর্যন্ত নতুন জাতীয় সড়ক তৈরি হচ্ছে। ওই রাস্তাটি চালু হয়ে গেলে ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের উপর ভারী বাণিজ্যিক যানের চাপ অর্ধেকের বেশি কমে যাবে। তখন এই মেরামত হওয়া রাস্তাও দীর্ঘদিন ভাল থাকবে। বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, ১৪নম্বর জাতীয় সড়কের পূর্ণ সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই দিল্লির অনুমোদন মিলেছে। কাজ শেষ হলে রাস্তার অবস্থার আমূল উন্নতি ঘটবে এবং যাতায়াত অনেক বেশি সুগম হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ