Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

সম্মানজনক পেনশন মিলছে না, জিপিএফে ফেরার আরজি বিদ্যুৎ দপ্তরের অধীন সংস্থাগুলির কর্মীদের

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা জিপিএফ সহ পেনশন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। বিদ্যুৎ দপ্তরের আওতায় থাকা সরকারি সংস্থাগুলির কর্মীরাও ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেই সুযোগ পেতেন।

সম্মানজনক পেনশন মিলছে না, জিপিএফে ফেরার  আরজি বিদ্যুৎ দপ্তরের অধীন সংস্থাগুলির কর্মীদের
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা জিপিএফ সহ পেনশন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত। বিদ্যুৎ দপ্তরের আওতায় থাকা সরকারি সংস্থাগুলির কর্মীরাও ২০০৯ সাল পর্যন্ত সেই সুযোগ পেতেন। এরপর যাঁরা কাজে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের জন্য কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সিপিএফ এবং ইপিএফের আওতায় থাকা পেনশন প্রকল্প ইপিএসের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সংস্থাগুলির আওতায় থাকা ১০ হাজারের বেশি কর্মী, অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ার সিপিএফের আওতায় আছেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা অবসরকালে থোক টাকা পাবেন এবং সামান্য অঙ্কের পেনশন পাবেন। কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এই নিয়ম সরিয়ে পুরানো নিয়মের জিপিএফে ফিরিয়ে দেওয়া হোক কর্মীদের। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেননি। তাই এবার প্রতিবাদ আন্দোলনের পথে এগলেন তাঁরা। বিদ্যুৎ দপ্তরের আওতায় থাকা সবক’টি অধীনস্থ সংস্থার কর্মী, অফিসার ও ইঞ্জিনিয়ারদের ১৪টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ফোরাম অব ইলেকট্রিসিটি এমপ্লয়িজ, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড অফিসার্স-ওয়েস্ট বেঙ্গল সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তারা নিজেদের দাবিদাওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করেছে। 

Advertisement

সংগঠনের আহ্বায়ক চিরঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দাবির পিছনে ন্যায্য কারণ আছে। যে-সময় কর্মী ও অফিসারদের সিপিএফের আওতায় আনা হয়েছিল, তখন সুদের হরে অনেক চড়া ছিল। সেইসময় ধরে নেওয়া হয়েছিল, অবসরের পর ওই প্রকল্পে পাওয়া থোক টাকা কোনো সঞ্চয় প্রকল্পে রাখলে, তা সুবিধাজনক হবে এবং সম্মানজনক রিটার্ন আসবে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। এখন সুদের হার এতই কম, তা কখনো সম্মানজনক পেনশনের বিকল্প হতে পারে না। পাশাপাশি এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হারে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ দেওয়া হয় না। যদি দেওয়া হত, তাহলে বেতন বাড়ত এবং পেনশনের জন্য বেতন থেকে বেশি অঙ্কের টাকা জমা পড়ত। সেক্ষেত্রে পেনশন বা পাওনা থোক টাকার পরিমাণও বাড়তে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ নেই। 
চিরঞ্জীববাবুর ব্যাখ্যা, সরকার তাঁদের জিপিএফের আওতায় আনলে, আদৌ সংস্থাগুলির ভাঁড়ারে টান পড়বে না। কারণ, ২০০৯ সালে নিযুক্তরা অবসর নেবেন ২০৪০ সালের পর। এই সংস্থাগুলি নিজেরই কর্মীদের বেতন ও পেনশনের ব্যবস্থা করে। সরকার তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। যেহেতু সংস্থাগুলির হাতে দীর্ঘ সময় থাকবে, তা‌ই লাভজনক এই সংস্থাগুলি ততদিনে তহবিলে যথেষ্ট টাকা রাখতে পারবে। তাই জিপিএফ ব্যবস্থায় সংস্থাগুলির কোনো ঝক্কি ছাড়াই কর্মীরা সম্মানজনক পেনশন পেতে পারবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ