Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ মালদহ জেলা পরিষদে সভাধিপতি নির্বাচন, তৃণমূলের একাংশের সমর্থন বিজেপিকে?

তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে আজ, মঙ্গলবার কি মালদহ জেলা পরিষদে বিজেপির সভাধিপতি হতে চলেছে? এনিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।

আজ মালদহ জেলা পরিষদে সভাধিপতি নির্বাচন, তৃণমূলের একাংশের সমর্থন বিজেপিকে?
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে আজ, মঙ্গলবার কি মালদহ জেলা পরিষদে বিজেপির সভাধিপতি হতে চলেছে? এনিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। ৪৩ আসন বিশিষ্ট মালদহ জেলা পরিষদে বিজেপির মাত্র চারজন সদস্য। কিন্তু এই সংখ্যা নিয়েই আজ সভাধিপতি নির্বাচনে ঝাঁপাতে চলেছে পদ্ম শিবির। ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি সোমবার রাতে জানিয়ে দিয়েছেন, সভাধিপতি নির্বাচনে আমরা প্রার্থী দিচ্ছি। তবে তৃণমূলের একাংশের সমর্থনে এভাবে জেলা পরিষদে সভাধিপতি পদের জন্য ঝাঁপানোয় বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। দলের কোর কমিটির একাংশের দাবি, সভাধিপতি নির্বাচনে দলের কী ভূমিকা হবে, তা নিয়ে তাঁদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। যদিও বিজেপির মালদহ দক্ষিণ জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সবটাই দলের রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে যেমন নির্দেশ আসবে, তেমনটাই করা হবে।

Advertisement

বিজেপি যখন তৃণমূলের একাংশের সমর্থন নিয়ে মালদহ জেলা পরিষদে সভাধিপতির চেয়ার দখলে মরিয়া, তখন কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছে তৃণমূলের অপর একটি অংশ। সংখ্যার হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের পাঁচজনের সঙ্গে সাগরিকা সরকারের নেতৃত্বে তৃণমূলের ১৮ জন জেলা পরিষদ সদস্য একসঙ্গে রয়েছেন। এই শিবিরের তরফে সভাধিপতি পদে গাজোল থেকে নির্বাচিত সাগরিকাকে সামনে রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসকে সহকারী সভাধিপতি পদ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই শিবিরকে পরিচালনা করছেন কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নূর। 
অন্যদিকে, বিজেপির চারজনের সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূলের ১৬ জন জেলা পরিষদ সদস্য। এই শিবিরে বিজেপির কে সভাধিপতি পদপ্রার্থী, এদিন রাত পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিধায়ক অম্লান বলেছেন, আমরা দলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। তবে সূত্রের খবর, বিজেপির পক্ষে তৃণমূলের যে অংশটি রয়েছে, তাদের সহকারী সভাধিপদ ছাড়া হবে। সেক্ষেত্রে বিজেপির সভাধিপতি হলে সহকারী সভাধিপতি হতে পারেন লিপিকা বর্মন ঘোষ। এর আগে তিনিই সভাধিপতি ছিলেন। দলীয় কোন্দলের জেরে তৃণমূলের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনে। ফলে সরতে হয় তাঁকে। একই কারণে পদ হারান সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল। যাঁরা অনাস্থা আনেন, তৃণমূলের সেই অংশটি এখন কংগ্রেসের সঙ্গে। এবং সংখ্যায় কিছুটা হলেও বেশি তাঁরা। ফলে আজ সভাধিপতি নির্বাচনে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা। 
এদিকে, আজ জেলা পরিষদে কী হচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে আগামী কাল, বুধবার ইংলিশবাজার পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচনের সমীকরণ। পুরসভায় অবশ্য বিজেপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে লড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেনি। বরং পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে আমরা পুরসভায় বোর্ড গঠন করব না।
এখানেই বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা ও জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে দলের আলাদা অবস্থান কেন? বিজেপির মালদহ দক্ষিণ জেলার সভাপতির সাফাই, এখন তো তৃণমূল বলে কিছু নেই। কারণ, তাঁদের কাছে তৃণমূলের প্রতীক নেই। যাঁদের তৃণমূল বলা হচ্ছে, তাঁরা এখন স্রেফ জেলা পরিষদের সদস্য। আমরা কারো সমর্থন নেব নাকি কেউ আমাদের সমর্থন করবেন, তা ফ্লোরে বোঝা যাবে। • ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ