ডাইনি অপবাদে বৃদ্ধা খুন, ২৪  বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন, ক্যানিং কাণ্ডে সাজা ঘোষণা আদালতের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০২ সালে ক্যানিংয়ে এক বৃদ্ধাকে ‘ডাইনি’ অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে খুন করে প্রমাণ লোপাট করতে দেহ পুকুরে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার ২৪ বছর পর দোষী সাব্যস্ত তিন অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করল আদালত। ওই তিন অপাধীর নাম লোদো সর্দার, তারাপদ সর্দার ও সুবোধ সর্দার। বুধবার আলিপুরের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত) বিচারক মণিকুন্তলা রায় এই আদেশ দিয়েছেন। বিচারক সাজার সঙ্গে প্রত্যককে কুড়ি হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দেন। জরিমানার ৬০ হাজার টাকা আদায় হলে তা অভিযোগকারীকে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। 

Advertisement

রায় ঘোষণার আগে মামলার বিশেষ প্রবীণ সরকারি কৌঁসুলি ইন্দ্রজিৎ রায় কড়া সাজার দাবি জানান। তিনি এজলাসে বলেন, ‘অপরাধীরা ঠান্ডা মাথায় ডাইনি অপবাদ দিয়ে যেভাবে একজন নিরাপরাধ বৃদ্বাকে হত্যা করেছে, তা ভাবলে শিহরিত হতে হয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া দরকার।’ যদিও অপরাধীরা একে একে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে বিচারককে বলেন, ‘আমাদের পরিবার‑পরিজন আছেন। তাই আমাদের কম সাজা দেওয়া হোক।’ এরপরই বিচারক বলেন,আপনাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও প্রমাণ লোপাটের সমস্ত অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। তাই আপনাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হল। এই আদালতের প্রবীণ আইনজীবীদের একাংশ এদিন বলেন, ‘দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত অপরাধীরা সাজাপ্রাপ্ত হল, এটাই বড়ো স্বস্তির বিষয়।’
২০০২ সালে মে মাসে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। আলিপুর আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। তদন্ত শেষ করে ওই গোয়েন্দা দপ্তরের তৎকালীন তদন্তকারী অফিসার সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় আলিপুর আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। মামলায় সাক্ষ্য দেন ২৪ জন। অভিযুক্তরা জামিনেই ছিল। গত মঙ্গলবার তাদের দোষী সাব্যস্ত করে জেল হেপাজতে পাঠায়। এই মামলায় এক অভিযুক্ত শুনানি চলাকালে মারা যাওয়ায় তাঁকে বাদ নিয়ে বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে 
চলে বিচার।