


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখলের মামলায় ধৃত কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিপুল সম্পত্তি দেখে তাজ্জব ইডি। বিভিন্ন জায়গায় জমি, বেনামে ফ্ল্যাট ছাড়াও একাধিক ব্যবসা খুলেছিলেন স্ত্রী ও ছেলেদের নামে। এমনকি জাল এনআরআই সার্টিফিকেট জোগাড় করে ছেলেকে ভরতি করেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। তদন্তে নেমে এই তথ্য উঠে এসেছে ইডির হাতে। এদিকে, পুলিশের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা এবং ভেঙে দেওয়া ওয়েলফেয়ার কমিটির কনভেনর বিজিতাশ্ব রাউতের বিপুল পরিমাণ টাকা ও সম্পত্তির প্রসঙ্গ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার ইডি আদালতে দাবি করে, প্রাক্তন পুলিশকর্তা পাঁচটি মেডিকেল কলেজে ক্যান্টিন চালান। তাঁর স্ত্রী কলকাতা পুলিশের এক সাব ইনস্পেক্টরের সঙ্গে যৌথভাবে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই পুলিশ আধিকারিক, তদানীন্তন শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে মেডিকেল কলেজগুলিতে এই ব্যবসা খোলেন। এক্ষেত্রে টেন্ডার প্রক্রিয়া মানা হয়নি। এই ক্যান্টিনের আয় ব্যয়ের হিসাব কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে। শনিবার, এই প্রসঙ্গ পুলিশের বৈঠকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বিপুল পরিমাণ টাকা এবং সম্পত্তির মালিক শান্তনুবাবু বলে তিনি দাবি করেছেন। একইসঙ্গে নিয়ম ভেঙে জাল এনআরআই সার্টিফিকেট দিয়ে ছেলেকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভরতি করেছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান। পাশাপাশি তিনি জানান, ভেঙে দেওয়া ওয়েলফেয়ার কমিটির কনভেনার বিজিতাশ্ব রাউত কনস্টেবল থেকে ইনস্পেক্টর হন। তিনিও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির অধিকারী। এমনকি কনস্টেবলদের বদলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে টাকা তুলতেন বলেও এদিনের বৈঠকে উঠে এসেছে। যদিও বিজিতাশ্ববাবুর বক্তব্য, তিনি দুর্নীতিতে জড়িত নন। ভুল
অভিযোগ করা হচ্ছে। শান্তনুবাবুর আইনজীবীবা জানিয়েছেন, ওই পুলিশকর্তার যে ব্যবসার কথা বলা হচ্ছে সেটি নিয়মমাফিক করা হয়েছে। এর নথি যথাসময়ে আদালতের কাছে তুলে ধরবেন। এদিকে ওই ক্যান্টিনগুলি বন্ধ করার জন্য ইডির তরফে নির্দেশ গিয়েছে বলে খবর।