নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় আসন্ন দুর্গোপুজো। আর এই পুজোর মরশুমেই সপ্তাহের প্রথম দিনেই ফের কলকাতায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকালে শহরের আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে সম্ভাব্য আর্থিক প্রতারণা এবং সেই সূত্রে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা কোথায়, কীভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার হিসাব।
ইডি সূত্রের খবর, সোমাবার দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ এবং শরৎ বসু রোড সংলগ্ন একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। চিটফান্ড ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তদন্তে নেমে কলকাতার মোট আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান বলে জানান আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের প্রথমিক অনুমান, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সংগৃহীত কয়েক কোটি টাকা আবাসন প্রকল্প-সহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। সেই অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরন এবং কোথায় কীভাবে টাকা সরানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
তদন্তকারীরা আরও জানান, অভিযানের সময় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, আর্থিক নথি এবং লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র সব খতিয়ে দেখা হয়েছে। এই আর্থিক তছরুপের সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের যোগ রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে চালানো অভিযানে পাওয়া তথ্য ও সূত্রের ভিত্তিতেই সোমবারের তল্লাশি বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক।
উল্লেখ্য গত মাসেও কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৭টি স্থানে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতারণার পরিমাণ কত, কারা এই লেনদেনের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন এবং এর পিছনে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে সোমবারের অভিযানে এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, কিংবা এই ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।



