রোজ একটি কলা খেলে শরীরের যে পরিবর্তন লোকের চোখে পড়বেই!
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পরামর্শে নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান শতভিষা বসু।

Advertisement

কলার পুষ্টিগুণ ও শক্তির উৎস
কলাকে একটি সম্পূর্ণ খাদ্য  বা কমপ্লিট ফুড বলা হয়। কারণ কলায় আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন বি সিক্স, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম এবং প্রচুর শক্তি। একটি মাঝারি সাইজের কলায় প্রায় ১০৫ কিলো ক্যালরির মতো শক্তি থাকে, যা দ্রুত এনার্জি দিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কলায় আছে প্রচুর ফাইবার বা খাদ্যতন্তু যা পেট ভর্তি রাখতেও কার্যকর। বিশেষ করে যারা খুব ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন এবং সকালের জলখাবার সঠিকভাবে খেতে পারেন না, তারা অন্তত দুটো করে কলা খেয়ে নিলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পাবেন এবং পেট খালি থাকবে না।
কলা খেলেই ওজন বৃদ্ধি? 
অনেকেরই ধারণা, কলা খেলেই ওজন বেড়ে যায়। আসলে আপনি কতটা কলা খাচ্ছেন এবং আপনার বর্তমান শারীরিক ওজন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার ওপর বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে। কেউ যদি গ্রেড টু বা গ্রেড থ্রি ওবেসিটি (স্থূলতা)-র শিকার হন, তবে কলা না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ তখন যে কোনো ক্যালরিযুক্ত খাবার শরীরের ফ্যাট বাড়াতে সাহায্য করে। তবে গ্রেড ওয়ান বা তার কাছাকাছি স্তরে থাকলে মাঝারি সাইজের একটা কলা অনায়াসেই খাওয়া যায়। বিকেলের স্ন্যাক্সের সময় বা অন্য কোনো সিরিয়াল আইটেম ও ময়দা বা বিস্কুটের মতো খাবার বাদ দিয়ে তার বদলে একটি কলা ডায়েটে রাখলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে না।
হার্টের স্বাস্থ্য
কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অতিরিক্ত নুন খাওয়ার ফলে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। পটাশিয়াম রক্তনালীতে জমে থাকা সোডিয়ামকে গলিয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে সংকুচিত রক্তনালীগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং উচ্চ রক্তচাপ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
দ্রুত এনার্জি
ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো খেলায়, খেলার মাঝেই খেলোয়াড়দের কলা খেতে দেখা যায়, কারণ কলা শরীরকে তৎক্ষণাৎ শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। কলায় তিন ধরনের প্রাকৃতিক শর্করা বা সুগার থাকে— গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ এবং সুক্রোজ। এই তিন ধরনের সুগারের মিশ্রণ দ্রুত এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ওয়ার্কআউট বা খেলার মাঝে কলা খেলে ক্লান্ত পেশি খুব দ্রুত চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সেরা দাওয়াই
কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। কলায় প্রচুর পরিমাণে পেকটিন ফাইবার থাকে। এই ফাইবার মলের পরিমাণ বাড়াতে, জল ধরে রেখে মল নরম ও স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে, যার ফলে শরীর থেকে মল সহজে ও স্বাভাবিকভাবে বেরতে পারে।

হজমশক্তির উন্নতি 
কলা হজমশক্তি বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার এবং প্রিবায়োটিক উপাদান আমাদের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাক্ট বা পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং খাবার দ্রুত হজম হতে সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস রোগীর কলা খাওয়া কি বারণ?
ডায়াবেটিস রোগীর কলা খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ নয়। তবে তাদের রক্তের শর্করার মাত্রা বা গ্লাইকোসাইলেটেড হিমোগ্লোবিন (HbA1c)-এর লেভেল কত রয়েছে তা দেখা জরুরি। যদি এইচবিএওয়ানসি আটের উপরে উঠে যায়, তবে কলা রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে মাত্রা আটের কম থাকলে দিনে একটি করে কলা খাওয়ালে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না।
ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে
ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কোলাজেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে ম্যাঙ্গানিজ। কলায় প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ থাকে, যা ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়া কলায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যেমন ডোপামিন ও ভিটামিন সি) রয়েছে, যা ত্বকের কালো দাগ বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো ঠিক করতে সাহায্য করে।
রাতে ঘুমানোর আগে কলা খাবেন না খাবেন না? 
কলায় ফাইবার থাকার কারণে হজমের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করে না। কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হয়। হালকা ডিনাররে পর ঘুমানোর আগে কলা খাওয়া যেতেই পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে কারো যদি সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগার ধাত থাকে কিংবা বুকে কফ জমে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তবে কলা খেলে শ্লেষ্মা বা কফ একটু বাড়াতে পারে। সেই ক্ষেত্রে রাতে কলা না খাওয়াই ভালো।
লিখেছেন: সুপ্রিয় নায়েক