নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ, বৃহস্পতিবার অশুভ শক্তি বিনাশের তিথি কৌশিকী অমাবস্যা। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, এই পবিত্র তিথিতেই দেবী কৌশিকী শুম্ভ-নিশুম্ভ অসুর বধ করে পৃথিবীতে শান্তি ও শক্তির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অসুর বধের স্মৃতি ও শক্তি আরাধনায় মেতে ওঠে তমলুকের তারা তঠস্থ সেবাশক্তি। তমলুক শহরে সিএমওএইচ অফিস সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে তারামায়ের পুজো ও দশমহাবিদ্যা যজ্ঞ এবার ১৩বছরে পড়ল। বুধবার সন্ধ্যায় সাড়ম্বরে পুজোর উদ্বোধন হয়ে গেল। রাজ্যের নানাপ্রান্ত থেকে পুরোহিত ও তান্ত্রিকদের উপস্থিতিতে নজরকাড়া উদ্বোধন হয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ঢাকি-সম্রাট ও পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢাকি গোকুলচন্দ্র দাস ঢাকের বোলে দর্শকদের মুগ্ধ করে তুলবেন। সন্ধ্যা ৭টায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হবে। গোটা শহর পরিক্রমা করবে। রাত ৯টায় মায়ের পুজো ও দশমহাবিদ্য যজ্ঞ শুরু হবে। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা এসেছে। এই উপলক্ষ্যে ১৬জন তন্ত্রসাধক তারাপীঠ থেকে এসেছেন। তাঁরা পুজো এবং হোমযজ্ঞে অংশ নেবেন। তিন কুইন্টাল বেলকাঠ ও ৪১কেজি ঘি দিয়ে ষোড়শ উপাচারে তন্ত্রমতে সারারাত পুজো এবং হোমযজ্ঞ হবে। সূর্য ওঠার আগেই তা শেষ হবে।
কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সকলের জন্য মায়ের ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে বাসন্তী পোলাও, চানা পনির, পায়েস ও মিষ্টি থাকবে। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। ইন্ডিয়ান আইডল সেরা দশের তালিকায় অঙ্কিতা মহুয়া গিরি ও সংগীতশিল্পী সায়ন চট্টোপাধ্যায় পারফর্ম করবেন। ১২সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। রাত ১০টায় প্রতিমা বিসর্জন।
পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা সৌমেন চক্রবর্তী বলেন, আমরা কয়েকজন ১৩বছর আগে কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তারামায়ের পুজো এবং হোমযজ্ঞ শুরু করেছিলাম। প্রতি বছর পুজো ঘিরে ভক্তদের ঢল বাড়ছে। এবার আমরা চারদিনের অনুষ্ঠান রেখেছি। শিশুদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কলকাতার শিল্পীদের নিয়েও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। তারা মায়ের পুজো এবং যজ্ঞ দেখার জন্য প্রচুর ভক্ত জড়ো হন। নিজস্ব চিত্র