সংবাদদাতা, দিনহাটা: তিনশো বছরের প্রাচীন গোসানিমারি কামতেশ্বরী মন্দিরে দেবী কামতেশ্বরীর সারা বছর পুজো হলেও শরৎকালে তিনি দুর্গারূপে পূজিতা হন। দুর্গা পুজোর সময় আলাদা করে কোনো মূর্তি তৈরি করা হয় না । চিরাচরিত পাথরের মূর্তিতে দেবীর পুজো হয়। মহালয়ার পর প্রতিপদ থেকে কামতেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপুজো শুরু হয়। তিনশো বছরেরও বেশী সময় ধরে এভাবে দুর্গা রূপে পুজো হচ্ছে গোসানিমারির কামতেশ্বরী।
বর্তমান মন্দিরটি কোচবিহারের মহারাজা প্রাণনারায়ণের আমলে ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। মহালয়ার পর দিন থেকে মন্দিরে পুজো শুরু হয়। প্রতিপদ থেকে মূল মন্দিরে দেবীর সিংহাসনের উত্তর দিকে ঘট বসিয়ে পুজো শুরু হয়। এরপর ষষ্ঠীর দিন মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা বেল গাছে বেল বরণ হয়। সপ্তমীতে মূল পুজো শুরু হয়। সপ্তমীর দিন সকালে মাকে ২২ জায়গার মাটি ও ২২ জায়গার জল দিয়ে স্নান করানো হয়। প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন জোড়া পায়রা বলি দেওয়া হয়। অষ্টমীতে মোষ বলি দেওয়া হয়। এছাড়া, দশমীতে চালকুমড়ো বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে। দেবী কামতেশ্বরীর পুজোর জন্য সেই সময় বিহারের দ্বারভাঙা থেকে ঝা পরিবারকে নিয়ে এসেছিলেন কোচবিহারের মহারাজা। তখন থেকে ঝা পরিবারের সদস্যরা এই পুজো করে আসছেন। সারা বছর মন্দিরে পুজো হয়। বৈদিক রীতি-নীতি মেনে পুজো করা হয়। এমনকী, মূর্তিটির সামনে পুরোহিত ছাড়া আর কেউ যেতে পারেন না । যদিও, এর কারণ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। সারাবছর মায়ের পুজোর সময় পায়রা বলি দেওয়া হয়। মূল মন্দিরের সামনে যে যজ্ঞ ঘর রয়েছে সেখানে সপ্তমী থেকে যজ্ঞ শুরু হয়। দশমীর যজ্ঞের আগুনের শান্তি হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দিরের বাইরে বড় মেলা বসে।
মন্দিরের পুরোহিত প্রিয়তোষ ঝা বলেন, দেবী কামতেশ্বরী কামাক্ষ্যার আরেক রূপ। প্রতিপদ থেকে এই মন্দিরে দুর্গাপুজো শুরু হয়। প্রতিদিন পায়রা বলি হয়। এছাড়া প্রতিদিন পুজোতে ভোগ নিবেদন করা হয়।