নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে দুর্গা। তাঁকে সাক্ষী রেখে চারহাত এক হল যুগলের। লুকিয়ে প্রেম, পালিয়ে বিয়ের বহু ঘটনা দেখেছে বাংলা। অরাজি পরিবারকে লুকিয়ে কালীঘাটে গিয়ে বিয়েও দেখেছে। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপে দাঁড়িয়ে মালাবদল সম্ভবত দেখেনি বঙ্গবাসী। অশোকনগরের নেতাজি সংঘের মণ্ডপে এরকমই একটি বিরল দৃশ্য উঠে এল। জানা গেল, পরিবারের তীব্র আপত্তি। তাই কালবিলম্ব না করে মরিয়া হয়ে শুভকাজ সম্পন্ন করলেন দুই প্রাপ্তবয়স্ক যুবক-যুবতী।
অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি সংঘের পুজো মণ্ডপ। অষ্টমীর সন্ধ্যা। চারদিকে প্রতিমা দর্শনের ভিড়। ঢাকের আওয়াজ। অচিরেই দুর্গামণ্ডপ পরিণত হল বিবাহের ছাদনাতলায়। ক্রমশ দুই ভাবী বর-কনের চমকপ্রদ কাহিনিও সামনে এল।
পাত্র তনু অধিকারী অশোকনগরের বাসিন্দা। খড়দহের বাসিন্দা হলেন পাত্রী সৌমি দফাদার। তাঁদের পরিচয় ইনস্টাগ্রামে। আলাপ অচিরেই বন্ধুত্বে গড়ায়। ক্রমে তা পরিণত হয় প্রেমে। প্রায় একবছর ধরে প্রেম চলার পর সৌমির পরিবার জানতে পারে এবং বেঁকে বসে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে জটিল। পুজোর আগে প্রেমিক-প্রেমিকা সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেন। অষ্টমীর রাতে দেখা করার প্ল্যানও হয়। বাড়িতে লুকিয়ে অশোকনগরে চলে আসেন সৌমি। তনু অপেক্ষা করছিলেন। এরপর সমস্যা দেখা দেয়। সৌমির বাড়ি থেকে ঘন ঘন ফোন। বাড়ি ফিরে আসার জন্য কড়া ধমক। কিন্তু তনুকে ছেড়ে যেতে রাজি নন সৌমি। তিনি জানিয়েছেন, আশঙ্কা ছিল, বাড়ি ফিরলে মারধর করা হবে। ফোন কেড়ে নেওয়া হতে পারে। অন্য জায়গায় বিয়ের ব্যবস্থা করত পরিবার। সেই ভয় থেকেই বাড়ি ফিরতে না চাওয়া।
এরপরই তৈরি হয় সেই নাটকীয় মূহূর্ত। দু’জনকে দেখে কৌতূহলী হন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁরা ঘটনাটি শোনেন। এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্লাবের সদস্যরাও। আলোচনা হয়। তারপর দু’জনে বিয়ে করবেন স্থির করেছেন শুনে সে ব্যবস্থা করে দেন স্থানীয়রা। তার জন্য পাড়ার দুর্গাপুজোর মণ্ডপকেই বেছে নেন মঙ্গলজনক স্থান হিসাবে। তড়িঘড়ি আয়োজন করা হয় সবকিছু। মালা, টোপর, শাঁখা, বিয়ের অন্যান্য সামগ্রী জোগাড় হয়। আনা হয় পুজোর পুরোহিত মশাইকে। তারপর রাতেই মণ্ডপে বিয়ের অনুষ্ঠান। মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে মালাবদল, সিঁদুরদান ইত্যাদি যাবতীয় রীতি সম্পন্ন করে বিয়ে হয় সৌমি ও তনুর।
প্যান্ডেলে তখন অষ্টমীর ভিড়। ঠাকুর দেখতে এসে এমন দৃশ্য দেখে অবাক দর্শনার্থীরা। তবে দুর্গা দর্শনের পাশাপাশি একটি বিয়েরও সাক্ষী থাকতে পেরে আনন্দিত তাঁরা। তনু বলেন, ‘বিয়ের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না। পরিস্থিতির চাপে আচমকাই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’ নেতাজি সংঘের সভাপতি অজয়কুমার দে জানান, ঘটনাটি তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত। তবে দু’জনের সম্পর্কের কথা জানার পর বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নবদম্পতি যাতে ভালভাবে সংসার করতে পারেন, সেটাই কাম্য।
দুর্গাকে সাক্ষী রেখে যে অভাবনীয় বিবাহ হল অশোকনগরে তার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দশমীতে ঘরোয়াভাবে বউভাতের আয়োজন করেছে তনুর পরিবার।



