নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউনেসকোর নাম ভাঁড়ানো দুর্গাপূজোর এন্ট্রিপাস দুর্নীতি কাণ্ডে প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করল ইডি। এজেন্সির নোটিস মতো বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি হাজির হন সল্টেলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি অফিসে। ঘণ্টা আটেক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছাড়া হয়। ইন্দ্রনীলবাবুর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
এই দুর্নীতিকাণ্ডে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি-ফার্ম হাউস সহ মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশকিছু নথি। যার মধ্যে রয়েছে লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক কাগজপত্র। তার ভিত্তিতেই বুধবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে ইডি অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। সেইমতো তিনি বুধবার বেলা ১১টার একটু আগে এজেন্সির দপ্তরে হাজির হন। জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে বিশেষ প্রিভিউয়ের নামে এন্ট্রি পাশ বিক্রি করা হয়েছিল? প্রাক্তন মন্ত্রী জানান, ইউনেসকোর সঙ্গে কথা বলেই সমস্ত কিছু চূড়ান্ত করা হয়। তাদের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই এই পাস বিক্রির ব্যবস্থা করেন। যদিও ইউনেসকোর লোগো জাল প্রসঙ্গ উঠতেই চুপ করে যান তিনি। তাদের যে অনুমতি নেওয়া হয়নি, এই প্রসঙ্গ তুলে ধরতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। যদিও তাতে সন্তুষ্ট নন তদন্তকারীরা। শহরের ২৪টি দুর্গাপুজোকে কোন ভিত্তিতে বাছা হয়েছিল, তার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি এজেন্সির সামনে তুলে ধরতে পারেননি বলে খবর। ইডি জেনেছে, সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটিগুলির উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। এরসঙ্গে এন্ট্রি পাস বিক্রি করে যে বিপুল টাকা এসেছিল, তার নথিও তুলে ধরা হয়। প্রাক্তন মন্ত্রী দাবি করেন, নিয়ম মেনে তাঁরা সমস্ত কিছু করেছেন। কিন্তু এর স্বপক্ষে যুক্তি তিনি তুলে ধরতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁকে আবার নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠানো হবে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।