চোখধাঁধানো ড্রোন শো, আতশবাজির রোশনাইয়ে দুর্গাপুজোর সূচনা ইডেনে
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় এসে আরও বড়ো করে দুর্গাপুজো করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে দশভুজার আবাহনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেই কথাই রাখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বিকাল পাঁচটা থেকে রাত ন’টা। টানা চার ঘণ্টার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মহালয়ার সন্ধ্যায় ‘উমা বরণ’এর নজির গড়ল রাজ্য। রেড রোডে ২৩ জেলার লোকনৃত্যের তালে তালে মুখ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এদিনের অনুষ্ঠান। যা চূড়ান্ত রূপ পায় ইডেন গার্ডেন্সে। উলুধ্বনি, নক্ষত্র সমাবেশ, বলিউডের তাবড় বাঙালি শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠান, রঙিন আলপনায় ঢাকা ইডেনের ২২ গজ, মাঠের মাঝে রাখা বিরাট মাপের শঙ্খ এবং ধুনুচির পাশাপাশি এদিনের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠল ড্রোন শো। ৩০০০ এর বেশি ড্রোনের মাধ্যমে ইডেনের কানায় কানায় ভরতি দর্শকের সামনে কলকাতার আকাশে ফুঁটে উঠল মহিষাসুরমর্দিনী রূপ। ১১ মিনিটের ড্রোন শো। ঘরের মেয়ে উমার দশভুজা হয়ে ওঠা, ড্রোনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা প্রতিকৃতি মোবাইল বন্দি করল গোটা স্টেডিয়াম। বাদ পড়লেন না মঞ্চ থেকে মাঠে নেমে আসা মন্ত্রী আমলা এবং বিশিষ্টজনেরাও। ড্রোন শো শেষ হতেই স্টেডিয়ামের আকাশে শুরু হয় আতশবাজির কারসাজি। একের পর এক রঙিন আতশবাজিতে দুর্গাপুজোর সূচনার সুর বেঁধে দিল এদিনের ইডেন গার্ডেন্স। 

Advertisement

দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানীর ইডেন গার্ডেন্সে এদিন গিনেস রেকর্ডও গড়ল রাজ্য। একসঙ্গে বেজে উঠল তিন হাজার ঢাক। বেনজির এই উদ্যোগে রাজ্যের মুকুটে নতুন পালক সংযোজিত হল। রেকর্ড গড়ার শংসাপত্র  মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। বাংলার ঢাক, ঢোল, করতালের পাশাপাশি মাটির সুরে মানুষ মন জয় করলেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মৈত্র, কৌশিকী চক্রবর্তী থেকে শুরু করে দোহার। অনুষ্ঠানের একেবারে শেষ পর্যায়ের লোকগীতি মানুষের মনে ঢেউ তুললেও, অনুষ্ঠানের শুরু থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত আগমনির গানে দুর্গা মাকে আহ্বান জানাল ক্রিকেটের নন্দনকানন। এসবের মধ্যে রাজ্যের দুর্গাপুজো নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি জানান, এবছর রাজ্যে ১২ হাজারের বেশি দুর্গাপুজো বেড়েছে। আগের বছরের ৪৫ হাজারের তুলনায় এবার প্রায় ৫৭ হাজার পুজো হচ্ছে রাজ্যে। তাদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রায় ২০০ পুজো তাঁর অনুরোধ রেখে অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে এবছর  পুজোর অনুমতি নিতে কাউকে যে আদালতে যেতে হয়নি, তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যপাল আরএন রবি বলেন, ‘একটা সময় সব ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ সারা দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিল।‌ বিশেষ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বাংলা সারা দেশে নেতৃত্ব দিয়েছিল। কিন্তু একটা সময় এই রাজ্য এমন কিছু মানুষের হাতে ছিল, যে কারণে পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ পিছনের সারিতে চলে গিয়েছিল। আশার কথা অবশেষে রাজ্যে এমন একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যে সরকার মা দুর্গার প্রতি আস্থাশীল।’ মূল মঞ্চে মিঠুন চক্রবর্তী, লেখিকা তসলিমা নাসরিন সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।