নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুজোর ভিড়ে রোমিওদের উৎপাত ঠেকাতে ময়দানে নামছে জেলা পুলিশের দুর্গাবাহিনী। ছিঁচকে চোর, ছিনতাইবাজ মোকাবিলায় পুলিশের অস্ত্র প্রহরী। নজরদারি চলবে ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যেও। তমলুক থেকে হলদিয়া, কাঁথি ও এগরা সহ বিগ বাজেটের পুজোর ভিড়ে দুর্গাবাহিনী সজাগ দৃষ্টি রাখছে। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে রোমিওদের আচার, আচরণ বেচাল হলেই সোজা শ্রীঘরে। একইভাবে জেলা পুলিশের পুরুষ কর্মীদের বিশেষ টিম ‘প্রহরী’ পুজোয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব পেয়েছে। চুরি, ছিনতাই কিংবা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলেই ঠাঁই হবে সোজা লকআপে। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুজো উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুর্গাবাহিনী ও প্রহরী টিমের শুভ সূচনা হয়েছে। মোটর বাইক, স্কুটি ও সাইকেলে ওই নজরদারি চলবে। সেইসঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশও থাকবে। পুজোর আনন্দ যাতে কারও দুঃখের কারণ না হয় সেকথা মাথায় রেখেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের এই উদ্যোগ।
রবিবার প্রতিপদ থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর দুর্গাপুজোর উদ্বোধন শুরু হয়ে গিয়েছে। ১১অক্টোবর কাঁথি চৌরঙ্গী রিক্রিয়েশন ক্লাবের পুজো উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী, সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। সোমবার কাঁথির নান্দনিক ক্লাবের পুজোর সাড়ম্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে। চলচ্চিত্র তারকা জিৎ, শিশিরবাবু, সৌমেন্দুবাবু উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার কাঁথি ওয়েলফেয়ার ক্লাবের পুজো উদ্বোধন হয়। এদিন চণ্ডীপুরের নারায়ণাঁড়ি সর্বজনীন পুজো কমিটির দুর্গাপুজোরও উদ্বোধন হয়।
পঞ্চমী থেকেই তমলুক, কাঁথি, হলদিয়ার বিভিন্ন বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়ে যাবে। ওইদিন থেকেই ময়দানে নামছে প্রহরী এবং দুর্গাবাহিনীও। জেলার প্রবেশদ্বার মেচেদায় বিগ বাজেটের পাঁচ-ছ’টি পুজো হয়। সেখানেও লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হবে। সেইসঙ্গে রোমিওদের উৎপাত আটকাতে দুর্গা বাহিনী টহল দেবে। থাকবে সাদা পোশাকের পুলিশও। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ গড়া হবে। সেখান থেকেও নিয়ন্ত্রণ চলবে। পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে সমাজশিক্ষা কেন্দ্রের মণ্ডপ দেখতে উদ্বোধনের আগে থেকেই দর্শনার্থীদের লাইন পড়ে যায়। সেখানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। হলদিয়ার হাজরা মোড়, ক্ষুদিরামনগর প্রভৃতি বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপে পঞ্চমীর সন্ধ্যা থেকেই জনস্রোত নামে। ওইসব বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপেও বিশেষ নজরদারি থাকবে।
পুজোর লম্বা ছুটিতে অনেকেই বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে বাইরে সপরিবারে বেড়াতে বাইরে যান। সেই সুযোগে হামেশাই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বেড়ানোর আনন্দ মাটি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে থানায় জানানোর পরামর্শ দিচ্ছে জেলা পুলিশ। বাড়িতে কেউ না থাকার বিষয়টি থানায় জানালে সেক্ষেত্রে পুলিশের টহল দেওয়া সম্ভব। তাতে চুরির ভয় কম থাকে।
পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, পুজোর সময় এই জেলায় প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়। তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। জেলাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ থাকবে। মেয়েদের সুরক্ষায় গড়া হয়েছে দুর্গাবাহিনী। তারা বিভিন্ন জায়গায় স্কুটিতে চড়ে টহল দেবে। এছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে বিশেষ টিম ‘প্রহরী’ গড়া হয়েছে। তারাও টহল দেবে। আমাদের পুলিশে অফিসার, কর্মী সহ ফোর্সের প্রত্যেকটি শাখা রাস্তায় থাকবে। দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।



