Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জ্বালানি সংকটের জের, বন্ধ হচ্ছে মোদির সাধের চায়ে পে চর্চা

‘চায়ে পে চর্চা’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রিয় স্লোগান।

জ্বালানি সংকটের জের, বন্ধ হচ্ছে মোদির সাধের চায়ে পে চর্চা
  • ২৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘চায়ে পে চর্চা’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রিয় স্লোগান। মোদির তৎকালীন ভোট স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত এই কর্মসূচি ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে প্রবল জনপ্রিয় হয় দেশজুড়ে। মোদি বারাণসীর প্রার্থী হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে প্রচার প্রথম শুরু করেন কাশীর বিখ্যাত অসি ঘাটের পাপ্পুর চায়ের দোকানে চায়ে পে চর্চা থেকেই। তাঁর বাল্য ও কৈশোরের সঙ্গে চা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ তাঁর পিতার জীবিকা ছিল গুজরাতের ভাদনগর রেলস্টেশনে চায়ের দোকান। মোদি নিজেও নাকি সেখানে বাবাকে সাহায্য করতেন। অতএব চায়ের দোকান তথা ক্ষুদ্র চা বিক্রেতাদের বিষয়ে মোদির যে বিশেষ দুর্বলতা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মোদি সরকারের আমলেই এবার দেশজুড়ে চায়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ  রান্নার গ্যাসের সংকট। রাজ্যগুলি থেকে সংবাদ আসছে, প্রতিটি রাজ্যে ছোট ছোট চায়ের দোকান, রাস্তার পাশের ফুড স্টলগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনাল হকার্স ফেডারেশন এ ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন। বণিকসভাগুলিতে তারা রিপোর্ট পাঠিয়েছে,  হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের গ্রামে ফিরছে। কারণ, চায়ের দোকান বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে গৃহস্থের এলপিজি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা হচ্ছে। কমার্শিয়াল এলপিজি বন্ধই করে দেওয়া হয়েছিল। এখন ৫০ শতাংশ  বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু সবথেকে বিপদে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা। তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে চা, শিঙাড়া, খাবারের স্টল চালাতে হয়। এখন সেই দাম আকাশছোয়া। এমনকি পাওয়াই যাচ্ছে না। কারণ সরকার প্রবলভাবে কালোবাজারি, মজুতদারির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাই জানা যাচ্ছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, আমেদাবাদ, ভোপাল এবং দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে চায়ের দোকান বন্ধ করে সেইসব দোকান চালানো শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। কারণ সিলিন্ডার মিলছে না। ৩ কেজির ছোট সিলিন্ডার ৯০ থেকে ১০০ টাকায় কিনত এইসব স্ট্রিট ভেন্ডাররা। সেই সিলিন্ডার এখন সাড়ে তিনশো টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই চায়ের দোকান বন্ধ। ছোট ছোট ফুড স্টল বন্ধ। পরিস্থিতি যে যথেষ্ট চিন্তাজনক সেকথা রাজ্যসভায় নরেন্দ্র মোদি বলেছেন মঙ্গলবার। বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাণিজ্য থমকে যাচ্ছে। এই কারণে আমাদের সংসদ থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতবাসীকে বার্তা দিতে হবে। সকলে যেন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। মোদি বলেছেন, এখনও পর্যন্ত জ্বালানি সংকট শুরু হয়নি। পর্যাপ্ত জ্বালানি আছে। এলপিজি আমদানি ও উৎপাদন দুই বাড়ছে। তবুই উদ্বেগ কাটছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ