নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যেসব খাদ্য বা পণ্যের প্যাকেটে জিএসটি নম্বর থাকে না, সেগুলি নিষিদ্ধ মাদক ও চোরাচালানের সামগ্রীতে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জিএসটি নম্বর ধরে কোম্পানি ট্র্যাক করে ব্যবস্থাগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। চোরাকারবারের শিকড়ের পৌঁছানোর সুযোগটাও অধরা থেকে যায় এমন ক্ষেত্রে। নিমতলাঘাট এলাকায় লজিস্টিকের অফিস থেকে নিষিদ্ধ ব্যথার ওষুধ উদ্ধারের তদন্তে নেমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে শুল্কদপ্তর। এই কোম্পানিগুলিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে তারা। মুরগির খাবারের প্যাকেটের মধ্যে পাচার করা হচ্ছে ব্যথার ওষুধ। শুল্ক দপ্তর এই বেআইনি ওষুধ উদ্ধার করেছে। কিন্তু কেন খাবারের প্যাকেট বেছে নিল তারা? তদন্ত করতে গিয়ে জানা গিয়েছে যে, মুরগির খাবারের ব্যবসায় জিএসটি নম্বর নিতে হয় না। সেই কারণে নম্বর ধরে কোম্পানির খুঁটিনাটি তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। তদন্তকারীরা আরও জানতে পারছেন, নুন, দানাশস্য, সিঁদুরসহ আরও কিছু সামগ্রীর ব্যবসাও জিএসটি নম্বর ছাড়াই বৈধভাবে চালানো যায়। কেবল নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে ওই ধরনের পণ্য বাণিজ্যের কোম্পানি খুলতে বাধা নেই। দুর্বৃত্তরা এই ফাঁকটাকেই কাজে লাগাচ্ছে মাদকসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাচারের জন্য। দানাশস্যের প্যাকেটেও ভরে দেওয়া হচ্ছে এই সমস্ত সামগ্রী। সেগুলি কোনো কুরিয়ারে বুক করা হচ্ছে। উল্লেখ থাকছে কেবলমাত্র কোম্পানির নাম। ফোন নম্বরও দেওয়া হচ্ছে না। তাই নিষিদ্ধ জিনিস ধরা পড়লেও কোথা থেকে তা এল, কারা পাঠাল তার শিকড়ে পৌঁছানো যাচ্ছে না। অধরা থেকে যাচ্ছে চোরাচালনকারীরা। তদন্তকারীরা দেখছেন, কোম্পানির ঠিকানা হিসাবে যা দেখানো হয়েছে তা ভুয়ো বা তার অস্তিত্বই নেই। সেখানে তল্লাশিতে গিয়ে খালি হাতে ফিরছেন তাঁরা। বিষয়টি শুল্কদপ্তরের তরফে কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। সেই কারণে খোঁজখবর শুরু হয়েছে বিভিন্ন কাগুজে কোম্পানির বিষয়ে। এর জন্য জিএসটি দপ্তরের সঙ্গেও কথা বলছেন শুল্কদপ্তরের কর্তারা, যাতে এই ধরনের কোম্পানিগুলিকে চিহ্নিত করে চোরাকারবারে কিছুটা লাগাম টানা যায়।



