Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬

তীব্র গরমে দিল্লিজুড়ে পানীয় জল সংকটের আশঙ্কা

তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস দশা দিল্লি তথা উত্তর ভারতের। প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরমে পুড়ছে দিল্লি। সাময়িক একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি এবং সংলগ্ন এনসিআর শহরগুলিতে একদফা বৃষ্টি হয়েছে।

তীব্র গরমে দিল্লিজুড়ে পানীয় জল সংকটের আশঙ্কা
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস দশা দিল্লি তথা উত্তর ভারতের। প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরমে পুড়ছে দিল্লি। সাময়িক একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি এবং সংলগ্ন এনসিআর শহরগুলিতে একদফা বৃষ্টি হয়েছে। সাময়িকভাবে কমলেও এখনই পুরোপুরি গরম থেকে মুক্তি মিলবে না। এর মধ্যে দিল্লিবাসীর আতঙ্ক বাড়িয়ে একধাক্কায় যমুনা নদীর জলস্তর কমে গিয়েছে প্রায় ছ’ফুট। স্বাভাবিক মান ৬৭৪.৫ ফুট থেকে জলস্তর নেমে গিয়েছে ৬৬৮.৫ ফুটে। ২০২১ সালের জুলাই মাসে সবথেকে কমে গিয়েছিল যমুনার জলস্তর। দাঁড়িয়েছিল ৬৬৭ ফুটে। দাবদাহ অব্যাহত থাকলে সেই ‘রেকর্ড’ও এবার যমুনা ছুঁয়ে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীর জলস্তর কমে যাওয়ার কারণে দিল্লির ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টগুলিতে ব্যবহারযোগ্য জল পরিশোধনের ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের দিল্লিজুড়ে চরম জল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশে ইতিমধ্যেই জলের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। জলের অভাবে নিত্যদিন বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ, জল সংকটের ফায়দা লুটতে মরিয়া হয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। চলছে পানীয় জলের বোতলের কালোবাজারি। দিল্লির কিছু অংশে পানীয় জলের বোতল বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের থেকে প্রায় দুই-তিনগুণ বেশি রেটে। এমনই অভিযোগ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড়ো অংশ। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে শহরের বিস্তীর্ণ অংশে জল সরবরাহ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে দিল্লি জল বোর্ড (ডিজেবি)। যেখানে প্রতিদিন ১৪৮ মিলিয়ন লিটার জল সরবরাহ করতে হয়, সেখানে গত কয়েকদিন ধরে দৈনিক ১২৫ মিলিয়ন লিটার জল সরবরাহ করা হচ্ছে। এমনকি শহরের বাসিন্দাদের কাছেও দিল্লি জল বোর্ডের পক্ষ থেকে ব্যবহারযোগ্য জল জমিয়ে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, হরিয়ানা সরকার প্রায় এক হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতে আরও পিছিয়ে যাচ্ছে যমুনায় বিলাসবহুল নৌকায় প্রমোদ ভ্রমণ চালুর সরকারি কর্মসূচি। সোনিয়া বিহার থেকে জগৎপুর পর্যন্ত যমুনার পাঁচ কিলোমিটার অংশে ওই প্রমোদ ভ্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছে সরকারি স্তরে। প্রথমে স্থির হয়েছিল, ফেব্রুয়ারি মাসে এর উদ্বোধন হবে। পরে তা পিছিয়ে মে মাস করা হয়। কিন্তু নদীতে জলস্তর কমে যাওয়ায় আপাতত নৌকা বিহার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই সরকারি সূত্রে খবর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ