নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রান্নার গ্যাসের সংকট যে তীব্র, সেকথা মোদি সরকারের ভাষ্যেই স্পষ্ট। আর তাই এবার নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিল কেন্দ্র। রান্নার গ্যাসের গ্রাহক এবং ডিস্ট্রিবিউটর উভয় পক্ষকে কড়া বার্তা দিয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক বলেছে, গ্যাস বুকিং এর আড়াই দিনের মধ্যে সেই সিলিন্ডার ডেলিভারি করতে হবে। আর যাতে তার প্রমাণ থাকে সেটি নিশ্চিত করতে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড ছাড়া গ্যাস ডেলিভারি হবে না। যে মোবাইল থেকে গ্যাস বুকিং হয়েছে, ডেলিভারির সময় সেখানেই ওটিপি পাঠানো হবে। সেই ওটিপি বলতে হবে ডেলিভারি ম্যানকে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা এদিন বলেন, আড়াই দিনের মধ্যেই যেখানে গ্যাস পাওয়া যাবে নিশ্চিত, তখন অযথা গ্রাহকরা যেন প্যানিক বুকিং না করে। একটি বুকিং থেকে পরবর্তী বুকিং এর মধ্যবর্তী সময়সীমা করা হয়েছে ২৫ দিন। রান্নার গ্যাসের সংকট যে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলতে চলেছে তিনটি সেক্টরে, সেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে মন্ত্রকের কথায়।
যুগ্মসচিব বলেন, যে রিভিউ কমিটি তৈরি হয়েছে, তারা স্কুল, হাসপাতাল, হোটেল এই তিনটি সেক্টরের সরবরাহ যাতে অব্যাহত থাকে সেটি নিশ্চিত করবে। স্কুলের কথা বলার অর্থ যে, মিড ডে মিল ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা, সেটা স্পষ্ট। রান্নার গ্যাস প্রতিদিন ভারতে যে পরিমাণ ব্যবহার করা হয়, তার বড় একটি অংশ আমদানি করা হয়। মোট এলপিজির ৬০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আর আমদানিকৃত এলপিজির মধ্যে আবার ৯০ শতাংশ আসে ইরানের হরমুজ প্রণালী হয়ে। যে হরমুজ প্রণালীতে ইরান জ্বালানি জোগান বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর এবং সেই লক্ষ্যে সমুদ্রতলে বিস্ফোরক ছড়িয়ে রাখছে। ভারতে দিনপ্রতি ১৮৯ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক (এমএমএসসিডি) এলপিজি ব্যবহার করা হয়। তার মধ্যে ৯৭.৫ এমএমএসসিডি ভারতেই উৎপাদিত হয়। ৪৭.৫ এমএমএসসিডি জোগানে সমস্যা হচ্ছে। যুগ্মসচিব বলেছেন, বিগত কয়েকদিনে তেল শোধানাগারগুলি অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন করছে। তাঁর কথায়, রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে ভারতবাসীকে চিন্তা করতে হবে না। এখনও কিন্তু বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় ভারতে গ্যাসের দাম কম। সরকার প্রভূত ভরতুকি দেয়। এখনও দিচ্ছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তেল বন্ধের হুমকি এবং সমুদ্রে মাইন ছড়িয়ে রাখা নিয়ে প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে সমুদ্র বাণিজ্যে। ভারতে এখন অশোধিত তেল দিনে প্রয়োজন হয় ৫৫ লক্ষ ব্যারেল। ৪০টি দেশ থেকে ভারতে আসে অশোধিত তেল। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের আশ্বাস যে, ৭০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে। সুতরাং প্রণালী বন্ধ থাকলেও তেলের সংকট হবে না। তবে যে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সি-মাইন ভেসেলকে লক্ষ্য করে মার্কিন নেভি আক্রমণ শুরু করেছে, সেই প্রণালীতে ভারতের ২৮টি জাহাজ আটকে রয়েছে। ৭৭৮ জন ভারতীয় কর্মী রয়েছে সেই জাহাজগুলিতে। জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। তেলের দাম কি বাড়বে? পেট্রলিয়াম মন্ত্রক উচ্চবাচ্য করেনি!