


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নামেই মেডিক্যাল কলেজ। মাত্র দু’জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে ইএনটি বিভাগ। ফলে ঠিকমতো চিকিৎসা মিলছে না বলে অভিযোগ রোগীদের। সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁর দাবি, বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যভবনকে জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সদর হাসপাতালে ইএনটি বিভাগে আগেই একজন সিনিয়র রেসিডেন্ট (এসআর) চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। বর্তমানে আর একজন এসআর থাকলেও তিনি ছুটিতে। ফলে দু’জন সিনিয়র চিকিৎসক দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগ। প্রতিদিন ইএনটি আউটডোরে গড়ে দু’শো রোগী আসেন। সপ্তাহের ছ’দিন আউটডোর। ফলে এক-একজন চিকিৎসককে টানা তিনদিন করে আউটডোর সামলাতে হচ্ছে। সঙ্গে অনকল ইমারজেন্সি ও অপারেশন তো রয়েছেই। ফলে রীতিমতো ক্ষুব্ধ এই বিভাগের দুই চিকিৎসক। দু’দিন আগেই তাঁদের একজন এমএসভিপি’র চেম্বারে গিয়ে চাকরি ছাড়ার হুমকিও দিয়ে এসেছেন। তাঁর কথায়, এভাবে দিনের পর দিন ডিপার্টমেন্ট চালানো যায় না। দু’জন চিকিৎসকের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা জরুরি কাজে ছুটি নিলে একজনকে আউটডোর ও ইন্ডোর গোটাটাই সামলাতে হবে। যা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। অবিলম্বে এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়তে হবে। এদিকে, রোগীদের অভিযোগ, আউটডোর খুললেও ইএনটি বিভাগে সময়ে চিকিৎসক আসেন না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভিড় বেশি থাকায় আউটডোরে ভালোভাবে পরীক্ষাও করা হয় না রোগীদের।
শুধু ইএনটি বিভাগ নয়, একই অবস্থা জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের রেডিওলজি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের। ওই বিভাগগুলির জন্যও দ্রুত লোকবল চেয়ে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে রেডিওলজিস্ট বলতে সবেধন নীলমণি একজন। তাঁর আবার অবসরের দু’মাস বাকি। মাঝেমধ্যেই তিনি নানা কারণে গরহাজির থাকেন। তখন একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায় ইউএসজি। কখনও আবার জোড়াতাপ্পি দিয়ে কাজ চালানো হয়। রেডিওলজিস্ট না হলেও ঠেকা দিতে মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক চিকিৎসক ইউএসজি করেন। তাঁকে দিয়েই কোনওমতে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা হয়। এর আগে একাধিকবার রেডিওলজিস্টের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের তরফে। কিন্তু কেউ যোগ দেননি।
মেডিক্যালের সুপার বলেন, ইএনটি, মাইক্রো বায়োলজি ও রেডিওলজি বিভাগের অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। আমরা বারবার স্বাস্থ্যভবনকে জানাচ্ছি। দ্রুত চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান না পাওয়া গেলে ওই বিভাগগুলি চালানো মুশকিল হয়ে পড়বে।