নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে হুগলি জেলা পরিষদের এক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। মঙ্গলবার রীতিমতো ফাঁদ পেতে ওই সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, পোলবার ঠিকাদার মুক্তারাম ঘোষের কাছে ওই ইঞ্জিনিয়ার ২০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম সুমন দাস। তিনি বহু বছর ধরে হুগলি জেলা পরিষদে কর্মরত। মূলত, পঞ্চায়েতস্তরে কাজের পরিকল্পনা ও নজরদারি করতেন তিনি। রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা জানিয়েছে, ধৃতের হেপাজত থেকে ঘুষ হিসাবে নেওয়া ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এদিন হুগলি জেলা পরিষদে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ধৃতকে নিয়ে যাওয়ার সময় অফিস ভবন ও আশেপাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, দুর্নীতির বিষয়টি সব সময় উদ্বেগজনক। হুগলি জেলা সদরের বিজেপি বিধায়ক তথা বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুবীর নাগ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সরকার যে তৎপর, তা ফের প্রমাণিত। জেলা পরিষদগুলিকে অনিয়মের আখড়া বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এদিনের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে। ধৃত সুমন দাস অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন। হিন্দিতে একটি চালু কথা আছে, ‘রঙ্গে হাতো পকড়না’। এদিন কার্যত জেলা পরিষদের ওই ইঞ্জিনিয়ারকে সেভাবেই গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার পুলিশ। জানা গিয়েছে, পোলবার ঠিকাদার মুক্তারাম ২০২৩ সালে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার কাজের বরাত পেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে সেই কাজ শেষ হয়। কাজ পাওয়ার নিয়ম অনুসারে তাঁকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা সরকারের ঘরে জমা দিতে হয়েছিল। কাজ শেষের পরে তা নিয়মমতো ফেরত পাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ, সেই টাকা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দাবি করেন জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার সুমন। বেশ কয়েকবার তদ্বির করেও টাকা ফেরত না পেয়ে ওই ঠিকাদার সম্প্রতি রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপরেই ফাঁদ পাতা হয়। পরিকল্পনা মতো মঙ্গলবার জেলা পরিষদে গিয়েছিলেন ওই ঠিকাদার। তিনি সুমন ঘোষের ঘরে গিয়ে তাঁর হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। সেই টাকায় আগে থেকেই দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা বিশেষ রাসায়নিক ছড়িয়ে রেখেছিল। পাশাপাশি টাকার নম্বরও লিখে রাখা হয়েছিল। সুমনকে টাকা দিয়ে ঠিকাদার ঘর থেকে বের হতেই পুলিশ অফিসাররা ঢুকে পড়েন। সুমনকে বিশেষ রাসায়নিকের মধ্যে হাত ডোবাতে বলা হয়। ওই তরলে হাত দিতেই তাঁর হাত বেগুনি হয়ে যায়। ইঞ্জিনিয়ারের ঘর তল্লাশি করে নির্দিষ্ট নম্বরের টাকাও খুঁজে পান তদন্তকারীরা। একপ্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।