


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে একসময় নানা জাতের দেশি ধানের চাষ হতো। রাসায়নিক নির্ভর উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ বাড়ায় জেলার নানা ধরনের দেশি ধান লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। জেলার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ভূতমুড়ি, কলমকাঠি , বাঘফুল, হরিণ পাঁজরের মতো ধান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিচ্ছে। জেলার কৃষিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিআই ট্যাগ পাওয়া রাঁধুনি পাগল ধান চাষের প্রসারে পরিকল্পনা শুরু করেছে।
ঝাড়গ্রামের নদী তীরবর্তী ও সমতল এলাকার দোঁআশ মাটিতে নানা জাতের দেশীয় ধান চাষ হতো। উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষ বাড়ায় দেশি ধান চাষ ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। ষাট-সত্তর বছর আগেও জেলার নানা প্রান্তে ভূতমুড়ি, কলমকাঠি, শাটিয়া, বাঘফুল, হরিণ পাঁজর, কালামানার মতো দেশি ধানের চাষ হতো। ওইসব চাল ছিল সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ঝাড়গ্রাম জেলার উঁচু এলাকায় জলের অভাবে ধান ও অন্যান্য সব্জি চাষ আগে থেকেই কম হতো। বর্তমানে জেলাজুড়ে একাধিক চেক ড্যাম তৈরি হয়েছে। সাব মার্সিবল থেকেও সেচের জল মিলছে। জেলার চাষিদের মধ্যে জৈব চাষবাসে আগ্ৰহ বাড়ছে। জেলা প্রশাসন জেলাজুড়ে পুকুর, জলাশয় সেনসাসের কাজ করছে। অন্যান্য দপ্তর সমান্তরাল ভাবে কাজ শুরু করেছে। ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র জেলার হারিয়ে যাওয়া নানা জাতের ধানের পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। ঝাড়গ্রাম জেলার কোথাও লাল কাঁকুড়ে মাটি, কোথাও বালি ও দোঁআশ মাটির দেখা পাওয়া যায়। মাটির ধরন অনুযায়ী জেলায় একসময়ে দেশি প্রজাতির নানা ধান চাষ করা হতো। ফলন কম হলেও দেশি চালের ভাত ছিল সুস্বাদু। জামবনী ব্লকের গিধনী এলাকার চাষি দীপক মাহাত বলেন, ছোটবেলায় বাবা, ঠাকুরদার মুখে শুনেছি, অনেক আগে স্থানীয় চাষিরা ভূতমুড়ি, বাঘফুল, কলমকাঠি ধান চাষ করত। কলমকাঠি চালের ভাতের ফ্যান খাওয়ার চল ছিল। চাষিরা এইসব ধান চাষ না করলেও দেশি জাতের এই ধানগুলোর নাম কিন্তু রয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের আধিকারিক অসীমকুমার মাইতি বলেন, অন্যান্য জেলার থেকে ঝাড়গ্রামের ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। পাহাড়, সমতল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় যেসব দেশি জাতের ধান চাষ হতো তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। চাষিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বর্তমানে দেশীয় প্রজাতির ধানের চাহিদা আবার বাড়ছে। বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে হারিয়ে যাওয়া জেলার নানা প্রজাতির ধানের পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা অজয় শর্মা বলেন, জিআই ট্যাগ মেলার পর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নয়াগ্ৰাম, বিনপুর-১, গোপীবল্লভপুর-১ ও ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে রাঁধুনি পাগল ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চাষিদের এই ধানের বীজ সরবরাহ করা হবে। ধানের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণন নিয়েও সচেতন করা হবে। সার্বিক এই উদ্যোগ জেলার চাষবাসের ছবি বদলে দেবে বলেই মনে করছি।