


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের ছবি ও প্রসাদ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পরিকল্পনা নিতে আজ, সোমবার বৈঠক ডাকলেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী। সকল মহকুমা শাসক, বিডিওদের নিয়ে তমলুকে ওই মিটিং হবে। সেখানে জগন্নাথদেবের প্রসাদ তৈরি, রেশন ডিলারদের কাছে সরবরাহ এবং গণবণ্টন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘মাইক্রো প্ল্যান’ নেওয়া হবে। তার রূপরেখা তৈরি করতে সোমবার বৈঠক ডাকা হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের ছবি ও প্রসাদ বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করার লক্ষ্যে সোমবার মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে ‘মাইক্রো প্ল্যান’ নিয়ে আলোচনা হবে। সেইমতো আমাদের জেলায় সব বাড়িতে পাঠানো হবে।
জানা গিয়েছে, জেলার প্রত্যেক ব্লকে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রশিক্ষিতদের দিয়ে তৈরি হবে খোয়া ক্ষীরের একটি হলুদ প্যাঁড়া ও একটি মিষ্টি গজা। খোয়া ক্ষীর জগন্নাথদেবের চরণে সমর্পণের পর তা দিয়েই প্যাঁড়া বানানো হবে। ২৫টি ব্লকেই প্রসাদ তৈরি হবে। রবিবার দুপুরে বিডিওদের নিয়ে এসংক্রান্ত একটি ভার্চুয়াল মিটিং করেন জেলাশাসক। সোমবার মাইক্রো প্ল্যান সাজাতে আরও একটি মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে জেলা খাদ্য নিয়ামক এবং মহকুমা খাদ্য নিয়ামকরাও উপস্থিত থাকবেন।
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট রেশন ডিলারের সংখ্যা ৮৭৩জন। তাঁদের মাধ্যমেই জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ ও দীঘায় জগন্নাথের নব আলয়ের ছবি সকলের বাড়িতে যাবে। আগামী ১৭জুন থেকে বাড়ি বাড়ি প্রসাদ পাঠানো শুরু হবে। ২৭জুনের মধ্যে ওই কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। কোনও কারণে কোথাও ওই তারিখের মধ্যে সম্পূর্ণ না হলে উল্টোরথের মধ্যে তা শেষ করতে হবে।
রামনগর-১পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নিতাই সার বলেন, আমরা ১১-১৬জুনের মধ্যে প্রসাদ তৈরির কাজ শেষ করব। আমাদের ব্লকে মোট ১২০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্ঘ আছে। প্রত্যেকটি সঙ্ঘকে প্যাঁড়া ও মিষ্টি গজা বানানোর কাজে যুক্ত করা হবে। এছাড়াও মিষ্টি তৈরির কারিগররা ওই কাজে যুক্ত হবেন। ব্লকে মোট ন’টি গ্রাম পঞ্চায়েত। তাতে মোট রেশন ডিলারের সংখ্যা ৩২জন। দুয়ারে রেশনের মতোই ছ’-সাত দিনের মধ্যে আমরা বাড়ি বাড়ি প্রসাদ ও মন্দিরের ছবি দেওয়ার কাজ সেরে নিতে চাইছি।
কলকাতা ইসকনের সহ সভাপতি তথা জগন্নাথধাম ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, দীঘার জগন্নাথদেবের প্রসাদ খোয়া ক্ষীর থেকেই তা তৈরি হবে। তারপর রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সেই প্রসাদ পৌঁছে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগে প্রশংসনীয়। দেবদেবীর কাছে পুজো দেওয়ার পর মহাভোগকে অন্য ভোগের সঙ্গে মিশিয়ে ভক্তদের দেওয়া হয়। এটাই রীতি। কেউ কেউ এনিয়ে অনর্থক রাজনীতি করছেন।