Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খুনের আগেই শ্যুটারদের পালানোর রাস্তা কি চিনিয়ে দিয়েছিল দীপঙ্কর? বিজেপি নেতা খুনে ধৃত টেনুকে জেরা পুলিশের

বোলপুরে বিজেপি নেতা চন্দন ভল্লা খুনের তদন্তে দীপঙ্কর রায় ওরফে টেনুর ভূমিকা আরও স্পষ্ট হচ্ছে

খুনের আগেই শ্যুটারদের পালানোর রাস্তা কি চিনিয়ে দিয়েছিল দীপঙ্কর? বিজেপি নেতা খুনে ধৃত টেনুকে জেরা পুলিশের
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরে বিজেপি নেতা চন্দন ভল্লা খুনের তদন্তে দীপঙ্কর রায় ওরফে টেনুর ভূমিকা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, আততায়ীদের জন্য ফোন ও সিমের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঘটনার আগে থেকেই তাদের পালানোর রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও দীপঙ্করের ভূমিকা ছিল। চন্দনবাবুর গতিবিধি সম্পর্কেও আততায়ীদের কাছে তথ্য পৌঁছেছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ফলে জমি-জায়গার বিবাদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

বোলপুরের ত্রিশুলাপট্টি সংলগ্ন একটি বন্ধ মিলের কাছে নির্জন রাস্তায় ফোন করে ওই বিজেপি নেতাকে ডেকে আনা হয়। এরপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, দীপঙ্কর আনারুলের মাধ্যমে ফোন ও সিমের ব্যবস্থা করেছিল। পরে সেই ফোন আততায়ীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওই ফোন থেকেই চন্দনবাবুকে ডেকে আনা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। ফোন ও সিম দু’টিই অবৈধ ছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। দীপঙ্করকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সে যেখানেই জমি-জায়গার কারবার করছিল সেখানেই নিহত বিজেপি নেতা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। এই কারবারে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমির কমিশন বা লভ্যাংশের ভাগ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, সিয়ানে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি জমিকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে বিবাদ ছিল। যদিও ওই জমি নিয়ে পুলিশ এখনও প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি। তদন্তকারীরা দীপঙ্করের সঙ্গে জমি-জায়গার কারবারে যুক্ত আরও কয়েকজনের সম্পর্কও খতিয়ে দেখছেন। সেকারণে জমি-জায়গা নিয়ে তথ্য জোগাড় করছে পুলিশ। 
খুনের ঘটনায় গত শনিবার বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দা আমিরুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সে মূল শ্যুটারের সঙ্গে ছিল। মূল শ্যুটার এখনও অধরা। সূত্রের দাবি, ওই শ্যুটার দীপঙ্করের পরিচিত। বোলপুরে শ্যুটার ডেরা বেঁধেছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার আগে দীপঙ্কর তাদের পালানোর রাস্তা চিনিয়ে দিয়েছিল বলেও তদন্তে তথ্য মিলেছে। ফলে চন্দনবাবুর গতিবিধি আগে থেকে নজরে রাখা, তাঁকে নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে আনা এবং ঘটনার পর আততায়ীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার ব্যবস্থা এই তিনটি বিষয়েই দীপঙ্করের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের আগে আততায়ীদের সঙ্গে দীপঙ্করের একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল কি না সেই তথ্যও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। ধৃত শেখ আনারুলের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সে শুধু ফোন ও সিমের ব্যবস্থা করেছিল, নাকি চন্দনের গতিবিধি এবং খুনের পরিকল্পনা সম্পর্কে আততায়ীদের তথ্য দিয়েছিল তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
দীপঙ্কর গ্রেপ্তারের পর চন্দনের ভাই কার্তিক ভল্লা দাবি করেছিলেন, টেনু তাঁদের পরিচিত। তাঁর দাবি ছিল, এই খুনের পিছনে বড় কোনও মাথা থাকতে পারে। চন্দনবাবুর ছেলে শুভ্রকান্তি বলেন, আমরা চাই আসল দোষীর শাস্তি হোক। পুলিশ তদন্ত করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ