


উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: বিধায়ক তহবিলের প্রায় ১০০ শতাংশ টাকা খরচ করেছেন সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। উক্ত টাকা তিনি এলাকায় ৯২টি উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করেছেন। যা এবারের ভোটে অনেকটাই প্রভাব পড়বে বলে দিবাকরবাবুর দাবি। যদিও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় তাঁর স্ত্রীর নাম ওঠার কাটা তাঁকে এখনও বিঁধছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পাঁচ বছরে কিছু হাইমাস্ট লাইট ছাড়া বিধায়কের উদ্যোগে সোনামুখীতে উন্নয়ন কিছুই হয়নি। দিবাকরবাবু বলেন, গত পাঁচ বছরে সোনামুখী শহর ও ব্লক এলাকা ছাড়াও ওই বিধানসভা কেন্দ্রের পাত্রসায়র ব্লকের ৫টি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় মোট ৯২টি উন্নয়ন প্রকল্প তৈরি করেছি। তাতে খরচ হয়েছে ৩কোটি ২৯লক্ষ ৯৯হাজার ১৩৫টাকা। উক্ত টাকায় কমিউনিটি হল থেকে শুরু করে হাইমাস্ট লাইট, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, পানীয় জল প্রকল্প, হাসপাতালের পাঁচিল, রাস্তা, শ্মশানযাত্রী প্রতিক্ষালয়, নিকাশি নালা, স্কুলের শেড, তোরণ প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কাজ করেছি।
সোনামুখীর তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল সাহা বলেন, গত পাঁচ বছরে বিধায়কের উদ্যোগে কিছু লাইট ছাড়া সোনামুখীর শহর ও গ্রামে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই উন্নয়ন হয়নি। যা উন্নয়ন হয়েছে সেগুলি আমাদের রাজ্য সরকার করেছে। রাজ্য সরকার দমকল, আইটিআই কলেজ, রাস্তা, নফরডাঙায় শালি নদীতে সেতু তৈরি করেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে দিবাকরবাবু অন্যান্য বিধায়কদের মতো ৩কোটি ৩০লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। তার মধ্যে ৩কোটি ২৯লক্ষ ৯৯ হাজার ১৩৫টাকা খরচ হয়েছে। তিনি মোট ৯২টি প্রকল্পের প্রস্তাব জেলা পরিকল্পনা বিভাগে জমা দিগেছিলেন। সিংহভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিবাকরবাবু ২০২১সালে প্রথমবার বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে জয়ী হন। এবারও দল তাঁকেই টিকিট দিয়েছে। তিনি গত পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিলের টাকায় এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বহু প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠান। তা মঞ্জুর হয়। যার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি কিছু কিছু কাজ চলছে। এলাকায় বিজেপির দাপুটে নেতা হিসাবেই তিনি পরিচিত। তবে বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর নাম একাধিকবার খবরের শিরোনামে এসেছে। তার মধ্যে ২০২২সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় তাঁর স্ত্রীর নাম ওঠা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। যদিও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দিবাকরবাবু প্রশাসনের কাছে উক্ত নাম বাতিল করার আবেদন জানিয়েছিলেন। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি। শুক্রবার পাত্রসায়রে জনসভায় এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ও বিজেপি দুই প্রার্থীর তুলনা টানতে গিয়ে দিবাকর ঘরামির স্ত্রীর নাম আবাস যোজনার তালিকায় ওঠা নিয়ে খোঁচা দেন।
দিবাকরবাবু বলেন, আবাস যোজনায় সার্ভে যখন হয়েছিল। তখন আমি বিধায়ক ছিলাম না। আমার পাকা বাড়িও ছিল না। তাই সরকারি নিয়মেই আমার স্ত্রীর নাম তালিকায় এসেছিল। তবে আমি জানতে পারা মাত্রই প্রশাসনের কাছে নাম বাতিলের আবেদন করেছি। গত পাঁচ বছরে আমার বিরুদ্ধে কোনোরকম দুর্নীতির অভিযোগ কেউ আনতে পারেনি।