নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পথ চলা পাঁচ মাস হতে চলল। কিন্তু, প্রকল্প গ্রহণ করতে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনকে বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা যায়নি। সেই ঘাটতি মেটাতে ‘স্কিম ব্যাংক’ তৈরি করতে উদ্যোগী হয়েছেন বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, প্রকল্পের তালিকা না থাকায় উন্নয়নের গতি আশানুরূপ হচ্ছে না। আগামী শুক্রবার জেলার প্রতিটি গ্রাম সংসদে বিশেষ সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে উঠে আসা প্রকল্পের প্রস্তাবগুলির মাধ্যমেই ওই ‘স্কিম ব্যাংক’ তৈরির কাজ শুরু হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নয়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। ওই পরিকল্পনা আগে থেকেই নিতে হয়। তারজন্য প্রকল্প বাছাই করা খুবই জরুরি। আগে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পুরসভাস্তরে বার্ষিক পরিকল্পনা বা ‘অ্যানুয়াল অ্যাকশন প্ল্যান’ গ্রহণ করা হত। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে তৈরি হত একটি তালিকা। আর্থিক বছর শুরুর আগেই ওই তালিকা প্রস্তুত করা হত। পরবর্তী আর্থিক বছরে সেইমতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হত। এখন ওই পরিকল্পনা গ্রহণের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সেই বিষয়টি প্রশাসনের আধিকারিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। এভাবে চললে আগামী দিনে প্রকল্প রূপায়ণ ধাক্কা খাবে। তারফলে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম থমকে যাবে। সরকারি তহবিলের বরাদ্দকৃত অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খরচ না করতে পারলে তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী।
কীভাবে তৈরি ও কার্যকর করা হবে ‘স্কিম ব্যাংক’ বা প্রকল্প ভাণ্ডার? জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিশেষ গ্রাম সভায় বাসিন্দারা নিজ নিজ এলাকার রাস্তাঘাট, নিকাশি নালা, কালভার্ট সহ অন্যান্য কাজের দাবি জানাবেন। চাহিদা অনুযায়ী তালিকা তৈরি হবে। পঞ্চায়েতের কর্মীরা সেই তালিকা ধরে প্রকল্পের ‘এস্টিমেট’ তৈরি করবেন। তা ধরে একটি তালিকা তৈরি হবে। প্রকল্পের তালিকা বড়ো হলেও কোনো অসুবিধা নেই। আগামী কয়েকবছর ধরে ওই তালিকার মেয়াদ বহাল থাকবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তালিকা থেকে প্রকল্প বাছাই করে পরপর রূপায়ণ করা হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য অর্থ কমিশনের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তর উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। প্রকল্পের ধরন ও প্রয়োজনীয় অর্থের নিরিখে কোন দপ্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা ইঞ্জিনিয়ার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ঠিক করবেন। সেইমতো পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। শুক্রবার বিশেষ গ্রাম সভা সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা এব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে যাব বলে আশা করা হচ্ছে।