নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসারে আয়ুর্বেদ এবং যোগ-এর উপর গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র। অথচ রাজ্যে আয়ুর্বেদ ওষুধের প্রধান কেন্দ্র থেকে বেশিরভাগ জেলা ওষুধ পাচ্ছে না। কল্যাণীর এই কেন্দ্রটির নাম স্টেট ফার্মাকোপিয়াল ল্যাবরেটরি অ্যান্ড ফার্মাসি ফর ইন্ডিয়ান মেডিসিন (এসপিএলপিআইএম)। ফলে আয়ুর্বেদিক ওষুধ পেতে রাজ্যজুড়ে চরম ভোগান্তি চলছে । হাসপাতালে ওষুধ অমিল, অতএব বাইরে থেকেই কিনতে বাধ্য হচ্ছে রোগীরা। সরকার অবশেষে ২১ জেলার ২৭৪টি আয়ুর্বেদিক ইউনিটের জন্য ২৭ লক্ষ টাকার ওষুধ কেনার নির্দেশ জারি করেছে।
রাজ্যের ৪০টি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়ুর্বেদিক শাখা চালু হয়েছে। মালদহের এক আয়ুর্বেদিক মেডিকেল অফিসার বলেন, কয়েকমাস ধরে ওষুধ নেই। পঞ্চায়েতের আয়ুর্বেদিক ডিসপেনসারিগুলিরও একই অবস্থা। তাঁদের মেডিকেল অফিসাররাও জানাচ্ছেন, প্রায় একবছর হল, তাঁরা কল্যাণীর এসপিএলপিআইএম থেকে ওষুধ পাচ্ছেন না। এমনকি সরকার অনুমোদিত ৮৪টি ওষুধ থেকে উৎপাদন কমে কমে এখন ৩৫টিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল রাজ্যজুড়ে পালিত হতে চলেছে ১১তম আয়ুর্বেদ দিবস।
কতদিন চলবে এই অবস্থা? আয়ুর্বেদের অধিকর্তা ডাঃ দেবাশিস ঘোষ বলেন, সমস্যার বিষয় উৎপাদন নয়, পরিবহণ। জেলাগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছি। সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে। স্থানীয়ভাবেও ওষুধ কেনা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যাপারটাও দেখছি।
রাজ্যজুড়ে বর্তমানে ৩০০টি আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্র (পূর্বতন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র), ২৯০টি আয়ুর্বেদিক ডিসপেনসারি, ৪০টি গ্রামীণ হাসপাতাল ও ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, ১২০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিসপেসারি এবং দুটি ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতালের (তপসিখাতা এবং মেদিনীপুর) আউটডোর থেকে আয়ুর্বেদিক ওষুধ পাওয়ার কথা। এসব জায়গাতেই সরবরাহ হওয়ার কথা কল্যাণীর এসপিএলপিআইএম-এর ওষুধের। কিন্তু, কোথায় ওষুধ? হাহাকার সর্বত্র, এমনই অভিযোগ।
আয়ুর্বেদিক মহল সূত্রের খবর, কুরুচিবেল, নিম্বাদি, তালিসাদি, যোগরাজ গুগ্গুল, আমলকীচূর্ণ, মধুগন্ধা, ধাত্রীলৌহ, সর্পগন্ধা, অশোকালৌহ, গুরুচিতেল, ফলত্রিকাদি সহ ৩৫ ধরনের ওষুধ কল্যাণীর কেন্দ্র থেকে গোটা রাজ্যে সরবরাহ হওয়ার কথা। কিন্তু, তা হচ্ছে কই?