রেকর্ড মুনাফার পরেও জনতার ঘাড়েই সুদের  বোঝা, বাড়ল ইএমআই, আমানতের সুদ নয়!
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রিজার্ভ ব্যাংক রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করতেই, ব্যাংকগুলি ঋণে সুদ বাড়াতে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাতে ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির কৌশল আরও একবার স্পষ্ট হল। কারণ, ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যাংক ঘোষণা করেছে, তারা ঋণের উপর সুদের হার বাড়িয়েছে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের রেপো লিঙ্কড লেন্ডিং রেট ৮.১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮.৩৫ শতাংশ করেছে। ব্যাংক অব বরোদা ৭.৯০ থেকে বাড়িয়ে ৮.১৫ শতাংশ, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৮.১০ থেকে ৮.৩৫ শতাংশ, ইন্ডিয়ান ব্যাংক ৭.৯৫ থেকে ৮.২০ শতাংশ, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক ৮.১০ থেকে ৮.৩৫ শতাংশ, ইউকো ব্যাংক ৮.০৫ থেকে ৮.৩০ শতাংশ করেছে। বেসরকারি তামিলনাড় মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৮.২৫ থেকে ৮.৫০ শতাংশ এবং কারুর বৈশ্য ব্যাংক ৮.৫৫ থেকে ৮.৮০ শতাংশ করেছে এই সুদের হার। সবই গত সপ্তাহ থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যাঁদের হোম লোন, গাড়ি লোন রেপো-র সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ইএমআই ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে যাবে।

Advertisement

অথচ আমানতের ক্ষেত্রে এই কদিনে কোনো ব্যাংকই সুদ বাড়ায়নি বলেই জানা গিয়েছে। বর্তমানে বড়ো বেসরকারি ব্যাংকগুলি থেকে দুই বছরের ফিক্সড ডিপোজিটে ৬.৩ থেকে ৭ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ৬.৫ থেকে ৭.১ শতাংশ সুদ মিলছে, যা অপরিবর্তিত। ব্যাংকগুলির যুক্তি,  তাদের কাছে যথেষ্ট নগদ জোগান রয়েছে। ফলে ঋণ দিতে টাকার অভাব হবে না। তাই আমানতে সুদ বাড়ানোর তাড়া নেই। অর্থাৎ আমানতে সুদ না বাড়িয়ে ঋণে দ্রুত সুদ বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির পথ আরও প্রশস্ত হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গেই উঠে আসছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির রেকর্ড মুনাফার পরিসংখ্যান। অর্থ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১২টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক মিলে মোট ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা তার আগের অর্থবর্ষের ১.৪১ লক্ষ কোটির তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে একা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াই ৭০ হাজার ৯০১ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা মোট মুনাফার ৪০ শতাংশের বেশি। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ১০২ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ১৬ হাজার ৬৩০ কোটি, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৪৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ৯ হাজার ২১৯ কোটি, ইন্ডিয়ান ব্যাংক ৩৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ১০ হাজার ৯১৮ কোটি, ইউকো ব্যাংক ৪৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০১৭-১৮ সালে যেখানে এই ব্যাংকগুলির মোট লোকসান ছিল ৮৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রেকর্ড মুনাফা হয়েছে তাদের। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ব্যাংকগুলির এই মুনাফা আরও বেড়ে ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। তাদের মোট ব্যবসা ২৮৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যখন ব্যাংকগুলি ইতিমধ্যেই রেকর্ড মুনাফা করছে, তখন আরবিআইয়ের সামান্য রেপো বৃদ্ধিকে ঢাল করে কেন সাধারণ মানুষের ইএমআই বাড়ানো হল, কিন্তু আমানতকারীকে তার প্রাপ্য বেশি সুদ দেওয়া হল না?