Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৭ দিনে আটবার ইমেল করেও ফেরানো যায়নি ৯৭ জন ভোটারের নাম, কমিশনের সঙ্গে অভিযুক্ত সীমা খান্নাও

৯০ কোটির মধ্যে মাত্র ৯৭! সংখ্যার হিসাবে নেহাতই নগন্য। কিন্তু এসআইআরের তালিকা থেকে বাদ যাওয়া গোয়ার ৯৭ ভোটারের ঘটনা কিন্তু যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

৭ দিনে আটবার ইমেল করেও ফেরানো যায়নি ৯৭ জন ভোটারের নাম, কমিশনের সঙ্গে অভিযুক্ত সীমা খান্নাও
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ৯০ কোটির মধ্যে মাত্র ৯৭! সংখ্যার হিসাবে নেহাতই নগন্য। কিন্তু এসআইআরের তালিকা থেকে বাদ যাওয়া গোয়ার ৯৭ ভোটারের ঘটনা কিন্তু যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের লিখিতভাবে বিরোধিতা করেছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার। সেই সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম ভোটার তালিকায় নামের সংযোজন ও বিয়োজনের ক্ষেত্রে ইসিআই.নেট-এর কেন্দ্রীকরণ। জানা গিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনি আধিকারিকদের অনুমতি সত্ত্বেও সফটওয়্যারের জন্য গোয়ার ৯৭ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। আইটি দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্নাকে চিঠি লিখেও তাঁদের নাম ফেরানো যায়নি। 

Advertisement

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের পর গোয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তার আগে ৭ দিনে ৮ বার গোয়ার মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক দিল্লিতে ইমেল করেন। তাতে বলা হয়, গোয়ার ৯৭ জন ভোটারকে স্থানীয় নির্বাচনি আধিকারিকরা ‘যোগ্য’ বলে চিহ্নিত করলেও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় যোগ করা যাচ্ছে না। কারণ, আইটি দপ্তর থেকে তালিকায় ‘পরিবর্তন’ করার প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই ৯৭ জনকে বাদ দিয়েই চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশ হয়। পরদিন গোয়ার ডেপুটি নির্বাচনি কমিশনার ডিরেক্টর জেনারেল অব আইটি সীমা খান্নাকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে বলা হয়েছিল, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আইটি দপ্তর বাধা হতে পারে না। দয়া করে ইআরও, এইআরও-র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাম যোগ করার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিন।’ তবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই নামগুলি অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলেই দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। 
এই প্রসঙ্গে গোয়ার মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক সঞ্জীব গোয়েল বলেন, ‘ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত তাঁদের (কেন্দ্রীয় সংস্থার)। কিন্তু ইআরও-দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার মেকানিজম থাকা উচিত।’ যদিও বিতর্কের মুখে নির্বাচন কমিশনের সাফাই, ইআরও-রা ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির নাম সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারেন। তবে ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে একবার নাম মুছে দিলে তা ফেরানো যায় না। গোয়ার ওই ৯৭ ভোটারের ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটেছে। 
গোয়ার এসআইআর প্রক্রিয়ায় গরমিল প্রকাশ্যে আসার পরই সরব বিরোধী দলগুলি। এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেস লিখেছে, ভোটাধিকার নিয়ে বড়ো বড়ো কথা বলা জ্ঞানেশ কুমারই নরেন্দ্র মোদির হয়ে ভোটাধিকার হরণ করেছেন। গোয়ার কংগ্রেস সভাপতি সুনীল কাওথানকারের অভিযোগ, গোয়ায় হার নিশ্চিত জেনেই এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের তালিকা বাদ দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ