Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর মুখে শিলিগুড়ি শহরে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু! মৃত্যু যুবকের, ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

পুজোর মুখে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। এক মাসে শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিং জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন।

পুজোর মুখে শিলিগুড়ি শহরে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু! মৃত্যু যুবকের, ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পুজোর মুখে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। এক মাসে শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিং জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন। এনিয়ে চলতি বছরে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি পার। শুধু তাই নয়, মৃত্যুও হয়েছে একজনের। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যদপ্তর, পুরসভা, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতকে ফিভার ক্যাম্প, মশার আঁতুরঘর নিধন অভিযানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কর।

Advertisement

এদিকে, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ অক্টোবর এক ব্যক্তির ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা ধামাচামা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রশ্ন, ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করার মতো পরীক্ষা না করেই কীভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোম’ উল্লেখ করা হল?
২ অক্টোবর রাতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় বিকাশ বর্মনের। তাঁর বাড়ি মাটিগাড়ার ডুমুরিয়ায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম উল্লেখ করেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই স্বাস্থ্যদপ্তরের পোর্টালে চলতি বছরে শিলিগুড়িতে ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে তাঁর নাম উঠে আসে।
কিন্তু এখানেই আপত্তি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের। তাদের বক্তব্য, ওই যুবক ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন। ডেঙ্গু নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাক-অ্যালাইজা পরীক্ষা করা হয়নি। তাহলে কোন ভিত্তিতে ডেঙ্গুকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হল?
জেলার পতঙ্গবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি সিএমওএইচ-২ আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই যুবক হেপাটাইটিসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সাত দিন ধরে পায়খানা না হওয়া, পেট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও ছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, এসএস-১ পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তবে মাত্র তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম দেখা দেওয়ায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
এদিকে, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত শিলিগুড়ি শহরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন আট জন। এই সময়কালে নকশালবাড়ির ত্রিহানা চা বাগান এলাকাতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। মাটিগাড়ার আাঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েত, কার্শিয়াংয়ের গারিধুরা, পানিঘাটা প্রভৃতি এলাকাতেও আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১০ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭০ জন।
জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক তুলসী প্রামাণিক বলেন, ইতিমধ্যে জেলাশাসক ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ফিভার ক্যাম্প করা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্তদের খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে মশার আঁতুর ঘর ধংস, জমা জল, নালা, ডোবা পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি শহরেও মশার উপদ্রব বাড়ছে। এই অবস্থায় পুরসভাকে ফগিং করতে দেখা যাচ্ছে না। নালা নর্দমাগুলি আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। জঙ্গল বা নালা নর্দমা সাফাইয়ের ক্ষেত্রেও গাফিলতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা। এনিয়ে তাঁরা ডেঙ্গুর আশঙ্কা করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ