নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: উৎসবের আবহে ডেঙ্গু বাড়ছে মুর্শিদাবাদে। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১,৮৫০। রাজ্যের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের নিরিখে প্রতিবার প্রথম দিকে থাকে মুর্শিদাবাদ। এবারও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত। আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা বিদায় নিলেও চারিদিকে জমা জলে মশার উপদ্রবে বাসিন্দাদের নাজেহাল অবস্থা। প্রতিদিনই নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলছে। তবে চলতি মাসে তুলনামূলকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি স্বাস্থ্য কর্তাদের। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১,৮৪০। মানুষকে লাগাতার সচেতন করায় কাজ হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়। পাশাপাশি যাবতীয় দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন সবাই মিলে মশা নিধনের ভাল কাজ করেছে। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরাও বাড়ি, বাড়ি গিয়ে লাগাতার নজরদারি চালানোর ফলে ডেঙ্গু অনেক নিয়ন্ত্রণে আছে।
তবে উৎসবের মরশুমে যেহেতু নজরদারি কমেছে ফলে ডেঙ্গু আবার মাথাচাড়া দিতে পারে বলেই আশঙ্কা। কারণ গতবছরও পুজোর মাসে (অক্টোবর) রাজ্যের মধ্যে শীর্ষেই ছিল মুর্শিদাবাদ। উৎসবের মরশুমে মশাবাহিত রোগ বাড়াতে পারে উদ্বেগ। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে গ্রামগঞ্জ ও শহরের বহু রোগী ভরতি। পাশাপাশি মহাকুমা ও ব্লক হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত বহু রোগীর চিকিৎসা চলছে। তবে একটাই বাঁচোয়া, এবছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে হেমারেজিক এবং শক সিনড্রোমের রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কম। তাই মুর্শিদাবাদ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১,৮৫০ ছুঁইছুঁই হলেও এখনও কোনো রোগী মারা যায়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর কয়েকদিন স্থায়ী হলেই ডাক্তার দেখান। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা বেশি দেরিতে শুরু করলেই বিপদ। এইসময় মশারি টাঙিয়ে শোওয়া বাধ্যতামূলক। সকালের দিকে যাতে কোনোভাবে মশা না কামড়ায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই জেলায় আগে অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। সামনের সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমবে।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি লালগোলার কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, সূতির মাহেশাইল গ্রামীণ হাসপাতাল ও রানিনগরের ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্তরা ভরতি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা তাঁদের উপরে কড়া নজর রাখছেন। এদিকে প্রতিটি ব্লক ও শহরে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি, বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন।



