সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে নিয়োগ ও প্রশাসনিক কাজ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ, পদোন্নতি, পরীক্ষা এবং পরামর্শদাতা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তদন্তের দাবি জানাল এসসি, এসটি, ওবিসি ও সংখ্যালঘু জয়েন্ট ফোরাম। রবিবার রাতে ই-মেল করে এই অভিযোগ জানানো হয়। এই অভিযোগ নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, মন্ত্রক আমাদের কিছু জানায়নি। আমরা জানলে তবে তো প্রতিক্রিয়া দেব।
শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠানো অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সালের অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এমটিএস পদের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হলেও বিভাগীয় আধিকারিক, সহকারী রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। পরে বিশ্বভারতী যোগ্য প্রার্থীদের একটি প্যানেল প্রকাশ করে। সেই প্যানেল কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত এক সহকারী রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। মঞ্চের দাবি, বিভাগীয় আধিকারিক পদে প্রয়োজনীয় তিনবছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে সহকারী রেজিস্ট্রার করা হয়। তাঁর নিয়োগ নিয়ে ক্যাগের রিপোর্টে উল্লিখিত অনিয়মের কথাও রয়েছে অভিযোগপত্রে। ওই সহকারী রেজিস্ট্রার আগামী ৩১ অক্টোবর অবসর নেবেন। তার পর তাঁকে নিয়োগ সংক্রান্ত কাজে পরামর্শদাতা করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মঞ্চ। গত ৮জুলাইয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠকে নতুন পরামর্শদাতা পদ তৈরির সিদ্ধান্তের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আইসিএআর আধিকারিকদের পরামর্শদাতা করা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বেতন, গাড়ি, বাড়ি ও অন্যান্য খরচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিয়ম মেনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বভারতীতে আগে থেকেই আইনজীবীদের একটি প্যানেল রয়েছে। তা সত্ত্বেও নতুন আইনজীবী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মঞ্চ। পরীক্ষা ও নিয়োগে সংরক্ষণের হিসাব ঠিক রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে না ডাকা, পরীক্ষায় নিয়ম না মানা, উত্তরপত্রে কারচুপি এবং ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র নষ্ট করার অভিযোগও করা হয়েছে। মেধাতালিকা, উত্তরপত্র ও সংরক্ষণের হিসাব পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে মঞ্চ।জয়েন্ট ফোরামের সভাপতি বৈদ্যনাথ সাহা বলেন, অভিযোগের সত্যতা নথি দেখলেই স্পষ্ট হবে। তাই নিয়োগ, পরীক্ষা ও খরচের সব নথি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা দরকার। এই সবে তদন্তের জন্যই শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছি আমরা ফোরামের তরফ থেকে।



