নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রেস্তরাঁ, হোটেলে খাবারের মান যাচাইয়ে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। একাধিক জায়গায় পচা খাবার পাওয়া গিয়েছে। মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তথা রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র সুন্দরবনে বোট ভ্রমণে যে খাবার পরিবেশন করা হয়, তার মান পরীক্ষার দাবি তুলেছেন পর্যটকরা। কারণ এবার ইলিশ উৎসবের সময় একাধিক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। অভিযোগ, নিম্নমানের খাবার দেওয়ার কারণেই এমনটা হয়েছিল। তাই আসন্ন দুর্গাপুজো এবং তারপর শীতের মরশুম শুরুর আগে বোটের খাবার পরীক্ষার জোরালো দাবি উঠেছে।
এখানেই শেষ নয়। অনিয়মের নমুনা আরও আছে। জানা গিয়েছে, সুন্দরবনে ৬৫০’র মধ্যে ২১০টি বোটে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের দেওয়া রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট রয়েছে। বাকিদের নেই। নিয়ম অনুযায়ী, রান্না করা খাবার পরিবেশন করলেই ফ্যাসাই থেকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট অথবা লাইসেন্স থাকা জরুরি। কিন্তু তা সিংহভাগ বোট মালিকের নেই বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, অনেক বোট মালিক হোটেল কিংবা অন্য জায়গা থেকে রান্না করা খাবার বোটে তুলে নেয়। পরে সেই খাবার পর্যটকদের পরিবেশন করা হয়। সেই মাছ-মাংস টাটকা কি না, তাতে কী কী সামগ্রী মেশানো হচ্ছে, তার মান কেমন ইত্যাদি দেখার কেউ নেই। পর্যটকদের দাবি, যেভাবে রেস্তরাঁর খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেভাবে সুন্দরবনেও এই কাজ করা প্রয়োজন।
খাবারে ভেজাল রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পক্ষে বোট মালিকরাও। সুন্দরবন মেকানাইসড ট্যুরিস্ট বোট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আমিরুল মিদ্যা বলেন, খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের লোকজন এখানে এসে খাবার পরীক্ষা করলে আমরা স্বাগত জানাব। কোথাও খামতি থাকলে তা শোধরানোর সুযোগ রয়েছে। একজনের জন্য সবার বদনাম হবে কেন? তাছাড়া বড়ো আকারে ক্যাম্প করে যদি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করা হয়, সেই আবেদনও জানাচ্ছি।