রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই উৎসবে মাতল দিল্লি
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ভোট চুরির আন্দোলনে উত্তাল দিল্লি। বন্ধ বহু রাস্তাঘাট। বসেছে ব্যারিকেড। তার মধ্যেও রাজধানীতে থেমে নেই পুজোর আয়োজন। যমুনা পেরনোর সময় চোখে পড়ছে চর থেকে কাশফুল কেটে নিয়ে যাচ্ছে পুজো আয়োজকরা। পাহাড়গঞ্জে রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গে কয়েক বছর ধরেই চলছে মেট্রোর কাজ। যাতায়াতের অসুবিধায় ভুগতে হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশনের ভক্তদের। কিন্তু পরমহংসের টান! তারই মধ্যে পুজোর আয়োজন। আগামী বছর দিল্লি মিশনের শতবর্ষও। ফলে পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি শতবর্ষ পালনেরও উদ্যোগ চলছে। 

Advertisement

তৃতীয়াতেই মণ্ডপে এসেছে প্রতিমা। একচালার। বেলুড় মঠের প্রতিমার আদলে। শিল্পী বিশ্বজিৎ পাল। ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনে বে঩জে উঠবে বাদ্যি। ঢাক, ঘণ্টা, কাঁসর। নিত্য ‘রামকৃষ্ণ শরণমে’র মধ্যেই চলবে দুর্গাপুজো। এবার পূজারী গুরুগ্রামের ব্রহ্মচারী রমেশ চৈতন্য। তন্ত্রধারক বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী সর্বরাজানন্দ মহারাজ। উৎসর্গ হবে মা সারদার নামে। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে যেদিন প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন, সেইদিন থেকেই মা সারদার নামে হয় উৎসর্গ।
দিল্লি রামকৃষ্ণ মিশনের সচিব স্বামী সর্বলোকানন্দ বললেন, ‘এবার প্রতিমা পুজোর চতুর্থ বছর। আগে পট পুজো হত। এখন গৃহী ভক্ত আর সন্ন্যাসীদের উদ্যোগে প্রতিমা পুজোর আয়োজন। সপ্তমী-নবমী, প্রতিদিন মিলবে ভোগ প্রসাদ। সবার নিমন্ত্রণ।’ দশমীর দিন (২১ অক্টোবর) বিকালে রয়েছে নিউ ইয়র্ক বেদান্ত সোসাইটির প্রধান স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দর বক্তৃতা—‘দ্য লাইট অব লাইটস’। বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে পুজোর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় ঠিকই। তবে দশমীতেও যে মিশনে দিল্লির রামকৃষ্ণ ভক্তদের ভিড় জমবে, বলাই বাহুল্য।
বাঙালিদের যেমন দেবী দুর্গার আয়োজন, একইভাবে উত্তর ভারতীয়দের নবরাত্রি। আলোয় সেজে উঠেছে ঝাণ্ডেওয়ালা মন্দির। শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, স্কন্দমাতার মতো দশদিন দেবী দুর্গার আলাদা আলাদা নামে চলছে দেবীপক্ষে বিশেষ পুজো। ভক্তদের ভিড়ে প্রতি সন্ধ্যায় জমে উঠছে চত্বর। অন্যদিকে, রামলীলা ময়দান, লালকেল্লার সামনে সুভাষ ময়দানে ঘুরছে নাগরদোলা। বসেছে মেলা। অভিনয় হচ্ছে রামলীলার।
লালকেল্লার ‘লব কুশ রামলীলা কমিটি’র চেয়ারম্যান অর্জুন কুমার জানালেন, দক্ষিণের মীনাক্ষি মন্দিরের আদলে গড়া হয়েছে মঞ্চ। চমকদার  থ্রি-ডি লাইট, সাউন্ড আর অভিনয়ে জমে উঠেছে রামলীলা। যেখানে সারাদিন মন্ত্রিত্ব সামলেও রামায়ণের নিষাদ রাজের ভূমিকায় অভিনয় করছেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী জুয়েল ওরাম। বনবাস পর্বে রাম-সীতা-লক্ষ্মণকে গঙ্গা পারাপারের মাঝি কেওয়তের ভূমিকায় বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি। রামের ভূমিকায় সিরিয়াল অভিনেতা দেবেশ ভার্মা। সীতা কাবেরী প্রিয়ম। হনুমান এবং রাবণের চরিত্রে পঙ্কজ কামাদ এবং রাজ প্রেমী। উদ্বোধন করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দশেরায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দুর্গাপুজো ও নবরাত্রিতে মেতে উঠেছে দিল্লি।