Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

দিল্লি-মুম্বইয়ে হামলার ছক, দেশজুড়ে ধৃত ৯ পাক চর

লালকেল্লার কাছেই গাড়িতে বিস্ফোরণ। গত বছর ১০ নভেম্বরের স্মৃতি এখনও তাজা দেশবাসীর মনে। সেই ঘটনার পর ছ’মাসের মধ্যে ফের বড়োসড়ো নাশকতার ছক ফাঁস হল সেই রাজধানীতেই।

দিল্লি-মুম্বইয়ে  হামলার ছক, দেশজুড়ে ধৃত ৯ পাক চর
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: লালকেল্লার কাছেই গাড়িতে বিস্ফোরণ। গত বছর ১০ নভেম্বরের স্মৃতি এখনও তাজা দেশবাসীর মনে। সেই ঘটনার পর ছ’মাসের মধ্যে ফের বড়োসড়ো নাশকতার ছক ফাঁস হল সেই রাজধানীতেই। দিল্লি, মুম্বই ও দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার চক্রান্ত শনিবার ভেস্তে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। গ্রেপ্তার করা হল মোট ৯ জনকে। মূলত বিমানবন্দর, রেল স্টেশন, পারমাণবিক কেন্দ্র এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলি ছিল তাদের টার্গেট। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। ধৃতেরা সকলেই ডি কোম্পানি অর্থাৎ কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। ওই ৯ জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্লক পিস্তল, কার্তুজ ও পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে তৈরি গ্রেনেডও। ধৃতদের বাড়ি দিল্লি, মুম্বই ও পাঞ্জাবে। কয়েকজন বিদেশিও রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দিল্লিজুড়ে জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। 

Advertisement

বেশ কয়েকদিন আগে গোয়েন্দা সূত্রে এই ষড়যন্ত্রের খবর মিলেছিল। সেইমতো অভিযান শুরু করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পুনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ডন বিজয় শ্যুটারকে। পাকিস্তান ও দুবাইয়ে শাহজাদ ভাট্টির গ্যাংয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বিজয়ের। তাকে জেরা করে একের পর এক সঙ্গীর সন্ধান মেলে। সাহিবগঞ্জ থেকে নীতীশ পাসোয়ান, মুম্বই থেকে তৌকির ও আরবাজ, দিল্লি থেকে হরবিন্দর সিং, মনজিৎ সিং ও গগনদীপ সিংকে পাকড়াও করা হয়। নেপালের এক বাসিন্দাকেও গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতের নাম লামা আং কামি। এই নেটওয়ার্কের লিঙ্কম্যান ছিল সে। পুলিশ সূত্রে খবর, সীমান্ত এলাকার ও মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমস্ত কাজ করত লামা। সেই সূত্রে দাউদ ঘনিষ্ঠ মুন্না ঝিংগাড়ার নামও উঠে আসছে। মুন্নার বন্ধু ছিল লামা। ব্যাংককের জেলে তাদের আলাপ হয়েছিল। তারপর থেকেই প্ল্যান শুরু। মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লোকাল অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আর তাদের মদতেই মজবুত হয়ে ওঠে টেরর নেটওয়ার্ক। আর এই পুরো নেটওয়ার্কের মাথা ছিল আইএসআই। পাকিস্তানের মদতে ধৃতরা দিল্লি, মুম্বই সহ নানা শহরে গোপনে রেকি করে তৈরি করেছিল নাশকতার ব্লু প্রিন্ট। স্টেশন, বিমানবন্দর সহ একাধিক জনবহুল এলাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীকেও টার্গেট করা হয়েছিল। 
কীভাবে এই নেটওয়ার্ক শহরের নানা প্রান্তে কাজ করত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি বিদেশি কোনো ‘ফান্ডিং’ রয়েছে কি না, সেটাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

সম্পর্কিত সংবাদ