নয়াদিল্লি: দিল্লির মান্ডি হাউস এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক আইসার সভানেত্রী নেহা বোরাকে ১০ হাজার টাকার ‘পিস বন্ড’ বা মুচলেকায় সই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম)। সেই নির্দেশ খারিজ করার জন্য দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নেহা। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় ‘রিজার্ভ’ রেখেছিলেন বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ। এদিন তিনি জানান, নেহার করা রিট পিটিশন খারিজ করা হচ্ছে। তবে এসইএম-কে কিছু নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁকে খেয়াল রাখতে হবে। তাঁকে সমস্ত নথিও সরবরাহ করতে হবে। বৃহস্পতিবার আদালতে নেহার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন জানান, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র কর্মসূচির সঙ্গে আইসা নেত্রীর কোনো যোগ ছিল না। তিনি কোনো শান্তিভঙ্গ করেননি। ১৬ অক্টোবর সিজেপি কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। আর নেহা মান্ডি হাউসে নিজের ডাকা কর্মসূচিতে অংশ নেন। নেহাকে যেভাবে আটক করা হয়েছিল এবং দিল্লি পুলিশের দেওয়া নোটিশ ‘বেআইনি’। নেহার আবেদন খারিজ করলেও হাইকোর্ট জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসস)-র ১৩৫ নম্বর ধারার আইনগত পরিধি ও প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ও অন্যান্য একাধিক ইস্যুতে ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দিপকে। একই ইস্যুতে ওইদিনই মান্ডি হাউসে পৃথক জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন নেহা। দু’জনকেই আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরদিন নেহাকে মুক্তি দেওয়া হলেও এসইএম আদালত নোটিশ দিয়ে জানায়, আইসা নেত্রীকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরা দিয়ে ১০ হাজার পিস বন্ডে সই করতে হবে। আইনজীবীর মাধ্যমে দিল্লি হাইকোর্টে নেহা জানান, ওই নোটিশটি অস্পষ্ট ও তথ্যগতভাবে ভুল। সংবিধানে যে মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তার পরিপন্থী। তিনি আরও জানান, শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা করার মতো যথেষ্ট তথ্য এতে দেওয়া হয়নি। এমনকি ঠিক কোন ঘটনার সঙ্গে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা যুক্ত রয়েছে, তাও ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।
শুনানি চলাকালীন দিল্লি পুলিশের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা নেহার বিরুদ্ধে ১২টি শান্তিভঙ্গের ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, এই পদক্ষেপ মূলত প্রতিরোধমূলক। তিনি অভিযোগ করেন, নেহা এমন একটি জমায়েতে অংশ নেন যেখানে সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ ও সিজেপি নেতারা সরকার (রেজিম) বদলের ডাক দিয়েছিলেন। পালটা সওয়ালে নেহা সিজেপির কর্মসূচিতে অংশ নেননি জানিয়ে তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘গণতন্ত্রে সরকার পরিবর্তন চাওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই।’ জবাবে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হবে ভোটের মাধ্যমে। নয়াদিল্লিতে কিছু সমাজবিরোধীদের জমায়েতে মাধ্যমে নয়।’



