জ্ঞানেশ বিক্ষোভে ফের তপ্ত দিল্লি, প্রতিবাদীদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল পুলিশ, ‘টপ বসে’র ইস্তফার লক্ষ্যে ককরোচ
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি এবং জেন জি’র প্রতিবাদ আন্দোলন চলছেই। উৎসব আবহে খানিক থমকে ছিল তার ঢেউ। কিন্তু দুর্গাপুজো-নবরাত্রি মিটতেই রাজধানীর বুকে ফের আছড়ে পড়ল জনরোষ। আম আদমির সেই নির্বাচন কমিশন অভিযানে শুক্রবার ফের তপ্ত হল দিল্লি। শুধু রাজধানী নয়, ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ নামে ওই মঞ্চের আহ্বানে এদিন দেশব্যাপী প্রতিবাদের যে ঝড় উঠেছে, তাতে রীতিমতো কেঁপে গিয়েছে পদ্মশিবির। আক্ষরিক অর্থেই বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত সাধারণ মানুষ সেই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। পূর্ব ঘোষণামতো হায়দরাবাদে ‘পিপলস মার্চে’ যোগ দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী পরকলা প্রভাকরও। দিল্লিতে প্রতিবাদীদের বড়ো অংশকে টেনেহিঁচড়ে আটক করে পুলিশ। আর ঠিক সেই পর্বেই মোদি সরকারের অস্বস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে ককরোচ জনতা পার্টি ঘোষণা করেছে, এবার ‘টপ বসে’র ইস্তফার লক্ষ্যেই এগবে আন্দোলন। অর্থাৎ, আগামী দিনে জেন জি’র নিশানা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! একই ইস্যুতে এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠিও পাঠিয়েছে মোদি সরকার বিরোধী সর্বভারতীয় কৃষক সংগঠনগুলির সম্মিলিত মঞ্চ সংযুক্ত কিষান মোর্চা। রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের আরজি, ‘আপনি অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফা দিতে বলুন। এসআইআর বাতিলের নির্দেশ দিন। কারণ এতে কারচুপি হয়েছে। আপনি হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’ এহেন ত্র্যহস্পর্শে চরম ব্যাকফুটে মোদি সরকার।

Advertisement

শুক্রবার দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ মঞ্চের দিল্লির সমন্বয় কমিটি। সেই কর্মসূচিতে শামিল হয় জেন জি, শ্রমিক, কৃষক এবং বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন। অংশ নিয়েছিল আম আদমি পার্টি (আপ) এবং বাম দলগুলিও। দুপুর সাড়ে ১২টা-১টা থেকে জমায়েত হতে থাকে দিল্লির গোল ডাকখানার সামনে। এটি আদতে কালীবাড়ি মার্গ এবং ভাই বীরসিং মার্গের সংযোগস্থল। সেখান থেকে নির্বাচন সদনের দূরত্ব মেরেকেটে ৫০০ মিটার। গোল ডাকখানা থেকে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর পর্যন্ত যাওয়ারই পরিকল্পনা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু গোটা এলাকায় আগেভাগেই বিএনএসের ১৬৩ ধারা ( পূর্বতন ১৪৪ ধারা) কার্যকর করে দেয় দিল্লি পুলিশ। রাস্তাজুড়ে ছিল গার্ডরেলের ব্যারিকেড। বন্ধ করে দেওয়া হয় দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। মোতায়েন করা হয় বিশাল বাহিনী। এমনকি সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ বিক্ষোভ ‘আটকাতে’ আধাসেনা এবং র‌্যাফও দিনভর টহল দিয়েছে রাজধানীর রাজপথে।
মিছিল এগনোর আগেই দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দেয়, বিএনএসের ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। সেই কারণে জমায়েত নিষিদ্ধ। মিছিল করলে তা আইনভঙ্গ হিসাবেই গণ্য হবে। পুলিশের সেই হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা করেনি আম জনতা। তিরঙ্গা নিয়ে পা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মিছিল শুরু হতেই বাধা দেয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। ব্যারিকেড ভাঙারও চেষ্টা চলে। এরপরই দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বাসে তাঁদের বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আটক হয়েও অবশ্য স্লোগান চলতে থাকে। ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তিফা দো’, ‘ভোট চোরি নেহি সহেঙ্গে’ স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়ে ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ ঘোষণা করেছে, আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৮টি রাজ্যের ৮৮টি শহরে এভাবেই আন্দোলন চলবে। 
এদিন মন্দির মার্গ থানায় স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরা দিয়েছেন ককরোচ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। পরে তাঁরা দু’জনেই সাফ জানিয়েছেন, নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো কারণ নেই। আন্দোলন থামবে না। কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।