মুম্বই: আইআইটি বম্বেতে পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় নয়া মোড়। প্রতিষ্ঠানের এক অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা ও আরও দুজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করল মুম্বই পুলিশ। মৃত ছাত্রের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের হয়েছে। মৃত পড়ুয়ার বাবার দাবি, গত তিন মাস ধরে তাঁর ছেলে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, হুমকি এবং মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছিল। তাঁর অভিযোগ, আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর শিরীষ বি কেদারের নির্দেশেই এধরনের হেনস্তা চলছিল।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হস্টেল থেকে উদ্ধার হয় আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের দেহ। ওই দিন সকালে পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে সাহিল ধরা পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। আইআইটি কর্তৃপক্ষের বয়ান অনুযায়ী, এর জন্য ওই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কোনো কঠিন পদক্ষেপ করা হয়নি। ওই বক্তব্য মানতে নারাজ সাহিলের বন্ধুবান্ধব ও পরিবার। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগে তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন অন্তত ৪০০ পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, সাহিলকে এক বছরের জন্য সাসপেনশনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তেমন হলে তাঁকে হস্টেল ছাড়তে হবে। তবে আইআইটি কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে এখনও অনড়। তারা জানিয়েছে, ওই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিভাগীয় প্রধান বিষয়টি নিয়ে পড়ুয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। আইআইটি বম্বে পড়ুয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে।
এরইমধ্যে সাহিলের বাবা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ তুললেন। তাঁর কথায়, মেধার ভিত্তিতেই আইআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সাহিল। প্রথম বছরে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় বছর থেকে নানাভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছিলেন সাহিল। সেই চাপেই সাহিল আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তভার মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, সামগ্রিক ঘটনাক্রম এবং সাহিলের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে অভিযুক্ত অধ্যাপকদেরও।