Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬

লোকসভায় টানা বিতর্ক শেষে গভীর রাতে ভোটাভুটি, পাশ ওয়াকফ বিল

শরিকদের চাপে ওয়াকফ ইস্যুতে নরম হয়েছে মোদি সরকার। তারপরও বুধবার লোকসভায় ‘ওয়াকফ সংশোধনী বিল’ পাশ করাতে হিমশিম খেতে হল অমিত শাহদের।

লোকসভায় টানা বিতর্ক শেষে গভীর রাতে ভোটাভুটি, পাশ ওয়াকফ বিল
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৯:০৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শরিকদের চাপে ওয়াকফ ইস্যুতে নরম হয়েছে মোদি সরকার। তারপরও বুধবার লোকসভায় ‘ওয়াকফ সংশোধনী বিল’ পাশ করাতে হিমশিম খেতে হল অমিত শাহদের। গভীর রাত পর্যন্ত টানাপোড়েন শেষে ভোটাভুটিতে পাশ হল এই বিল। পক্ষে ভোট পড়ল ২৮৮টি। আর বিপক্ষে ২৩২টি। যদিও এদিন লোকসভায় দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রীকে। ছিলেন না কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। মোদি সরকার অবশ্য বিলটি নিছক সংশোধনী বলে মানতে রাজি নয়। মুসলমানদের কল্যাণে সংসদে সম্পূর্ণ ‘নতুন’ বিল আনা হয়েছে— জনমানসে এই বার্তা দিতে মরিয়া হয়ে ওয়াকফ সংশোধনী বিলের নামই বদলে দেওয়া হল। নতুন নাম ‘ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট এমপাওয়ারমেন্ট এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট’ বিল। সংক্ষেপে ‘উমিদ’, বাংলায় যার অর্থ আশা। যদিও সংসদে বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদের মধ্যে সাফাই দিতে বাধ্য হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানান, ওয়াকফ পরিষদ এবং বোর্ডে অমুসলিমরা থাকলেও তাঁরা ধর্মীয় কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না।

Advertisement

বিতর্ক এড়াতে বুধবার লোকসভায় শুরুতেই বিল পাশের জন্য আবেদন করেন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। জানিয়ে দেন, ওয়াকফ সংক্রান্ত সংসদীয় যৌথ কমিটির অনেক সুপারিশই মেনে নিয়েছে সরকার। এই বিলকে সামনে রেখে কোনও মসজিদ বা দরগার উপর সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। এতদিন পর্যন্ত যেসব ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলির উপরও প্রভাব পড়বে না। অর্থাৎ, রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট থাকছে না। ওয়াকফ সম্পত্তির অডিট করার ক্ষমতা রাজ্যের হাতেই থাকছে। কেন্দ্র শুধু নজরদারি করবে। বিরোধীরা অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের বিপথে চালিত করছে। রিজিজুর বক্তব্যকে সমর্থন করেন অমিত শাহ। বিরোধীদের বক্তব্যকে খণ্ডন করার চেষ্টায় কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে তোষণের রাজনীতি করতেই ওয়াকফ আইনে পরিবর্তন করেছিল কংগ্রেস। দিল্লির ১২৩টি সম্পত্তি রাতারাতি ওয়াকফের বলে ঘোষণা করা হয়। একইভাবে তামিলনাড়ু, হিমাচল সহ দেশের নানা জায়গায় ওয়াকফের জমি বলে বেআইনি মসজিদ হচ্ছে, হোটেল হচ্ছে। তাই আমাদের এই বিলের লক্ষ্য হল জমি রক্ষা। মুসলমানদের জমি কেড়ে নেওয়া নয়।’ এই আইন মুসলমানদের মানতেই হবে বলেও জানিয়ে দেন অমিত শাহ। যদিও সাংসদদের কোনওরকম সংশোধনী দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি যেভাবে বিলটি আনা হল, তার প্রতিবাদ জানান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল, গৌরব গগৈরা। ওয়াইসি অভিযোগ করেন, এই বিলের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের চেষ্টা চলছে। এরপর বিলের প্রতিলিপি ছিড়ে প্রতিবাদও জানান তিনি। 
তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিরোধিতায় সরব হন। কল্যাণ বলেন, ‘কাকে জমি দেব, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সরকার আইন করে বাধ্য করতে পারে না।’ তাঁর আরও প্রশ্ন, ওয়াকফ কাউন্সিলে অমুসলিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাহলে পুরীর মন্দির বা কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের অছি পরিষদে কেন কোনও অহিন্দু নেই? এদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এদিন সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন দলের তিন সাংসদ— দেব, শতাব্দী রায় ও জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। 

সম্পর্কিত সংবাদ