Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এইচআইভি আক্রান্তের গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু, মারধরও! উত্তপ্ত এম আর বাঙ্গুর

সময়ে ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানোয় চিকিৎসার গাফিলতিতে এইচআইভি আক্রান্ত এক প্রসূতির গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হল।

এইচআইভি আক্রান্তের গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু, মারধরও! উত্তপ্ত এম আর বাঙ্গুর
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  সময়ে ব্যবস্থা না নিয়ে বারবার হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানোয় চিকিৎসার গাফিলতিতে এইচআইভি আক্রান্ত এক প্রসূতির গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হল। এমনই মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে টালিগঞ্জের এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই প্রসূতির স্বামী মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি এও বলেছেন, এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার জন্য তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ছুঁতমার্গ করা হয়। এমনকি, তাঁর পায়ে রড দিয়ে মারা হয়। আরও অভিযোগ, গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে জানার পর দ্রুত তাকে পেট থেকে বের করে আনার কথা বললে এক সিস্টার বলেন, ‘তোকে ছুরি-কাঁচি দিয়ে দিচ্ছি, নিজেই অপারেশন কর।’

Advertisement

ওই প্রসূতির স্বামী ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার এইচআইভি আক্রান্তদের সংগঠন ‘সাউথ ২৪ পরগনা নেটওয়ার্ক অব পিপল লিভিং উইথ এইচআইভি এইডস (এসএনপি প্লাস)’-এর তরফেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যভবনে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

কী বলা হয়েছে সেখানে? প্রসূতির স্বামী এবং এইচআইভি আক্রান্তদের সংগঠনের বক্তব্য, সন্তান ধারণের পর থেকে বাঙ্গুরেই চেক আপ করাচ্ছিলেন ভাবী মা। তাঁর প্রসবের সম্ভাব্য দিন (ইডিডি) ছিল ৩ জানুয়ারি। কিন্তু অস্বস্তি বাড়তে থাকায় ৩১ ডিসেম্বর হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে তাঁকে দেখে ভর্তি না করেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২ জানুয়ারি ফের তিনি হাসপাতালে গেলে ব্যথা কমানোর ইঞ্জেকশন দিয়েই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ৬ জানুয়ারি আবার যান ওই হাসপাতালে। অভিযোগ, সেদিন স্রেফ ইউএসজি করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় প্রসূতিকে। ১৬ জানুয়ারি গর্ভস্থ সন্তান পেটের মধ্যে নড়চড়া করছে না বুঝতে পেরে ১৭ তারিখ তাঁকে নিয়ে আসা হয় বাঙ্গুরে। এবার ইউএসজি সহ পরীক্ষানিরীক্ষা করে বলা হয়, তিনদিন আগেই গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। প্রসূতির পেট ফুলতে থাকে ক্রমশ। ১৮ জানুয়ারি নর্মাল ডেলিভারি পদ্ধতিতে মৃত সন্তানকে বের করে আনা হয়। প্রসূতি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর স্বামীর সঙ্গে মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এইচআইভি পজিটিভ জানার পর থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা ছুঁৎমার্গ করছিলেন। বারবার স্ত্রীকে বলেছেন, তুমি ধারেকাছে থাকবে না। দূরে গিয়ে বসো। এক সিস্টার পায়ে রড দিয়ে এমন মারে যে ক্ষত হয়ে গিয়েছে। স্ত্রী সবদিক থেকে বিধ্বস্ত হয়ে আছে। নিজের বাচ্চাকে খুঁজে যাচ্ছে। ওকে আমি কী জবাব দেব!’ হাসপাতালের সুপার ডাঃ শিশির নস্কর বলেন, ‘গুরুতর অভিযোগ। তদন্ত হবে। তবে প্রাথমিক খোঁজখবরে জানা গিয়েছে, প্রসবের সম্ভাব্য সময় অনুযায়ী যখন চেক আপ করার ছিল, উনি তখন আসেননি। পরে আসেন। যথা সময়ে আসলে হয়তো সন্তানকে রক্ষা করা যেত। মারধরের অভিযোগেরও তদন্ত হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ