সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: তিনদিন আগে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিসি রোডের জবর দখলকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছেন। ফুটপাতে দোকানের কোনো সামগ্রী রাখা যাবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু, যে খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে তিনি হেঁটে গেলেন, তা নিয়ে একটি বাক্যও ব্যয় করলেন না। পুজোর আগে অর্থাৎ ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব রাস্তা সংস্কার হয়ে যাবে বলে সরকার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু, সেই ডেডলাইনের মধ্যে আদৌ কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা সংশয়ে রয়েছেন। জেলার প্রতিটি শহরে পুজোর দিনগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। বর্ধমান হোক বা গুসকরা শহরের রাস্তার খানাখন্দ এখনো ভরাট হয়নি।
বর্ধমানের বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকার বলেন, এবার মনে হচ্ছে পুজোর দিনগুলিতে টোটোয় বসে দুলতে দুলতে মণ্ডপে যেতে হবে। মূল রাস্তাগুলিতে এখনও তাপ্পি পড়ল না। ছোটো রাস্তাগুলি দিয়ে সাইকেল চালাতেও ভয় লাগে। বিসি রোডে পুজোর বাজার জমে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কেনাকাটার জন্য আসছেন। তাঁদের কোমরে ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, জেলার কোনো ব্লকের রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। সরকারের নাকি আর্থিক অবস্থা খারাপ। অথচ ‘আচ্ছে দিনের’ স্বপ্ন দেখিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল। আচ্ছে দিন মানে কী গর্তে ভরা রাস্তা? পুজোর আগে হয়তো কয়েকটি রাস্তায় তাপ্পি দেওয়া হতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ রাস্তা বেহাল হয়েই থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তহবিলের সমস্যার কারণেই রাস্তা সংস্কার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ হয়েছে তাতে অল্প কয়েকটি রাস্তা সংস্কার হলেও বাকি পথ চলার অযোগ্য থেকে যাবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়েছে। অনেক এলাকাতেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকারের দাবিও একইরকম। তিনি বলেন, মেরামতের কাজ চলছে। অনেক রাস্তায় পেভার ব্লক বসানো হচ্ছে। এক আধিকারিক বলেন, সব রাস্তা কয়েকদিনের মধ্যে সংস্কার করা সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় বড়ো পুজো হয় সেখানকার রাস্তাগুলি যাতে দ্রুত মেরামত করা যায়, সেদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলার বাসিন্দারা বলেন, কৃষক সেতু দক্ষিণ দামোদরের বাসিন্দাদের কাছে যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠেছে। নিত্যদিন এখানে যানজট লেগেই রয়েছে। তার উপর রাস্তার অত্যন্ত বেহাল দশা। প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করছে হচ্ছে। খণ্ডঘোষ, রায়নার বহু প্রধান সড়কও বেহাল হয়ে রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে আদৌ সড়ক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে জেলার অন্যান্য প্রান্তের মতো দক্ষিণ দামোদরের বাসিন্দারাও সংশয়ে রয়েছেন।