Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জীবিত শিশুর পরিবারের হাতে মৃত সন্তান! সদ্যোজাত বদলের নালিশ

এবার আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বদলের অভিযোগ উঠেছে। জীবিত শিশুর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল মৃত সন্তান।

জীবিত শিশুর পরিবারের হাতে মৃত সন্তান! সদ্যোজাত বদলের নালিশ
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবার আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বদলের অভিযোগ উঠেছে। জীবিত শিশুর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল মৃত সন্তান। যা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বুধবার রাতেই মৃত শিশুর পরিবারের সদস্যরা সদ্যোজাত নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের একটি দল রাতেই গিয়ে হাসপাতালে তদন্ত শুরু করে। হাসপাতালের কর্মী-আধিকারিকদের যখন ‘শীত ঘুম’ ভাঙে তখন হস্তান্তর হওয়া মৃত সদ্যোজাতের দেহ সমাহিত করে দেওয়া হয়েছিল। আরামবাগ মহকুমা আদালতের নির্দেশ মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমাহিত স্থল আরামবাগের বসন্তবাটি এলাকা থেকে সদ্যোজাতর দেহ উদ্ধার করা হয়। এরজন্য সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকের উপস্থিতিতে দেহ উদ্ধারের পর মেডিকেলে পাঠায় পুলিশ। ঘটনায় হাসপাতালের চরম উদাসীনতা সামনে এসেছে। গাফিলতি নিয়েও গুচ্ছ প্রশ্ন উঠেছে। 

Advertisement

আরামবাগ মেডিকেলের অধ্যক্ষ রমাপ্রসাদ রায় বলেন, শিশুর দেহ অন্য পরিবারকে হস্তান্তরের বিষয়টি জানার পরই থানায় জানানো হয়। ভুল নিশ্চিতভাবেই হয়েছে। তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে পরবর্তী ক্ষেত্রে যে কোনও মৃতদেহ পরিবারকে হস্তান্তরের সময় উভয়ের পর্যাপ্ত নথি সংগ্রহ করে যাচাই করতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে তা যাচাই করা হয়নি বলে মনে হচ্ছে। 
আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির তারকেশ্বর থানার বালিগোড়ির বাসিন্দা জেসমিনা বেগম সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ আরামবাগ মেডিকেলে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এটি তাঁর তৃতীয় সন্তান। জন্মের সময় সদ্যোজাতের ওজন ছিল প্রায় দেড় কেজি। শারীরিক কিছু সমস্যা থাকায় তাকে এসএনসিইউ বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়। আরামবাগের বসন্তবাটি এলাকার খন্দকার সাহানারা বেগম তারকেশ্বরের একটি নার্সিংহোমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তার ওজন ছিল প্রায় সাড়ে তিন কেজি। ওই শিশুরও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আরামবাগ মেডিকেলের এসএনসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে জেসমিনা বেগমের নবজাতক মারা যায়। অভিযোগ, তার দেহ ভুলবশত সাহানারা বেগমের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, জীবিত সদ্যোজাতকে বর্ধমান মেডিকেলে রেফার করা হয়। 
বুধবার সকালে সাহানারার পরিবার এলাকায় সদ্যোজাতের দেহ সমাহিত করে। এরপরই ঘটনা অন্য মোড় নেয়। জেসমিনার পরিবার মৃত শিশুর খোঁজ করতে এসএনসিইউ বিভাগে গেলে তাদের চোখ কপালে ওঠে। জেসমিনার মা সাবেরা বেগম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানানো হয় শিশুর অবস্থা ভালো নয়। কাগজে সই করাল। বুধবার সকাল থেকে আর কিছু জানায়নি। শিশুর খোঁজ নিতে গেলে বলে সে মারা গিয়েছে। তার সঙ্গে দেহ অন্যদের দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন কীভাবে অন্যের হাতে দিয়ে দেওয়া হল শিশুকে? আমরা আমাদের শিশুকে ফেরত চাই। 
খন্দকার পরিবারের এক সদস্য আম্বিয়া খন্দকার বলেন, দাদা-বউদির প্রথম একটি কন্যাসন্তান হয়। তারপর বউদির দু’টি সন্তান হলেও তারা মারা যায়। এবারও পুত্রসন্তান জন্মের পর অবস্থা ভালো ছিল না। হাসপাতালে বউদির নাম ধরেই মাইকে ডেকে মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেহ দিয়ে দেয়। ফলে সেই সময় মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। বউদি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের লোকজন মোড়া অবস্থাতেই দেহ নিয়ে এসে সমাহিত করে। পরে হাসপাতাল থেকে ফোন করলে যাওয়া হয়। পুরোটাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি।

সম্পর্কিত সংবাদ