নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন: ভারত নয়, মোস্ট ওয়ান্টেড দাউদ ইব্রাহিম পাকিস্তানেই রয়েছেন। এই ভাষাতেই রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের ‘ত্রুটি’ শুধরে দিল নয়াদিল্লি। ভারত সাফ জানিয়েছে, যে দেশে আল কায়েদার মাথা ওসামা বিন লাদেনের হদিশ মিলেছিল, সেখানেই রয়েছেন দাউদ।
গত জুলাই মাসে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট রাষ্ট্রসংঘে পেশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞ বেন সাউল। তাতে দাউদকে ভারতীয় জঙ্গি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি দলের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী। তিনি জানান, ডি কোম্পানির মাথা দাউদ। লাদেনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আল কায়েদা যোগের কারণে ২০০৩ সালে ঘোষিত জঙ্গির তালিকায় তাঁর নাম ঢুকিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু, ১৯৯৩ সালের মুম্বই জঙ্গি হানার সূত্রে দাউদকে তারও অনেক আগে থেকে খুঁজছে নয়াদিল্লি। আন্তর্জাতিক জঙ্গি ঘোষণার আগেই তিনি ভারত থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আত্মগোপন করেছেন। অর্থাৎ রিপোর্টে সাউল যে দাবি করেছেন, তা মিথ্যা।
তাহলে কোথায় রয়েছেন দাউদ? সেই জবাবও দিয়েছেন পুরী। বলেছেন, ‘রাষ্ট্রসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই জঙ্গি এমন একটি দেশে লুকিয়ে রয়েছেন যেখানে লাদেনের হদিশ মিলেছিল।’ অর্থাৎ পাকিস্তান। তারপরও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্টে দাউদ এবং ডি কোম্পানিকে ভারতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। পুরী কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, রিপোর্টের বিভিন্ন অংশে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। এধরনের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা প্রয়োজন। প্রায়ই সন্ত্রাসবাদের মদতদাতারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে মানবাধিকারকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ বিশেষজ্ঞের ওই রিপোর্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে সম্পূর্ণ অন্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।



